ইলিশ নিষিদ্ধের সময়সীমা প্রায় শেষ, চাল পাননি জেলেরা

আপডেট: 08:17:53 22/10/2018



img

মো. শহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট : ইলিশ শিকার নিষিদ্ধের নির্ধারিত সময়সীমা শেষের পথে। কিন্তু প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ চাল এখনো পাননি শরণখোলায় তালিকাভুক্ত দুই হাজার ২৮৫টি জেলে পরিবার। অথচ নিষেধাজ্ঞা শুরুর দিকেই জেলেদের এই চাল দেওয়ার কথা।
জেলেদের চাল না পাওয়ার বিষয়ে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যারো পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। চেয়ারম্যানরা বলছেন, পুজোর ছুটিতে খাদ্য গুদাম বন্ধ থাকায় তারা সময়মতো চাল ছাড়াতে পারেননি। আর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বলছেন, ছুটির আগেই চেয়ারম্যানদের চাল নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা আসেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কার্ডধারী জেলের সংখ্যা মোট পাঁচ হাজার ৩০০। এর মধ্যে খাদ্য সহায়তার তালিকায় রয়েছেন দুই হাজার ৮৫ জন। এসব জেলের বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এই চার মাস ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া, মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশের প্রজননের সময় ২২ দিন প্রত্যেক জেলে পরিবারের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ চাল ইলিশ ধরা বন্ধের শুরু থেকেই দেওয়ার কথা। কিন্তু তিন সপ্তাহ হতে চললেও এখনো চাল পাননি জেলেরা।
উত্তর সাউথখালী গ্রামের জেলে সবুর মোল্লা, ওহিদুল হাওলাদার, বগী গ্রামের আলী হোসেনসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের যখন দরকার তখনই যদি চাল না পাওয়া যায়, তাহলে লাভ হলো কী? যখন তারা মাছ শিকার করতে নদীতে নামতে পারবেন, তখন তো তারা চাল কিনেই খেতে পারেন।
উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম হালিম বলেন, সময়মতো জেলেদের হাতে চাল তুলে দিতে পারলে তাদের উপকার হতো।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, পূজার বন্ধের জন্য গুদাম থেকে চাল আনা যায়নি।
ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম টিপু বলেন, সময়মতো ডিও না পাওয়ায় চাল উত্তোলন করতে পারেননি।
খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, জেলেদের তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। এ কাজ শেষ হলে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয়কুমার রায় বলেন, এ উপজেলায় কার্ডধারী পাঁচ হাজার ৩০০ জেলের মধ্যে দুই হাজার ২৮৫ জন খাদ্য সহায়তা পান। এদেরকে চাল দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার রায়েন্দা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা দেবদূত রায় বলেন, চেয়ারম্যানদেরকে অনেক আগেই চাল নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কী কারণে দেরি হয়েছে সেটা তাদের ব্যাপার।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস বলেন, জেলেদের মধ্যে চাল সঠিক সময়ে বিতরণের জন্য চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ডিও দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এখনো চাল বিতরণ হয়নি তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন