শহীদ পরিবারের মর্যাদা মেলেনি নাজিমের উত্তরসূরিদের

আপডেট: 02:39:40 13/03/2018



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : দেশ ও দেশের মানুষের রক্ষা ও লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নাজিম উদ্দীন। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা নাজিমকে ধরে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। সেখানেই নাজিম উদ্দীনসহ বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
দেশ স্বাধীনের এতো বছরেও নাজিম উদ্দীনের পরিবার আজো শহীদ পরিবারের মর্যাদা পায়নি।
হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ নাজিম উদ্দীন মহেশপুর পৌর এলাকার ক্যাম্পপাড়ার পরেশ মণ্ডলের ছেলে।
এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাজিম উদ্দীন ছিলেন মুজাহিদ বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি তাতে অংশ নেন। তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলায় পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধ করে ফিরে আসেন। ওই সময় তার ছেলে ওয়াজেদ আলীর বয়স ছিল মাত্র সাত মাস। ছেলে অসুস্থ থাকায় তার জন্য ওষুধ কিনে শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন নাজিম।
এসংবাদ রাজাকাররা পেয়ে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে খবর দেয়। তখনই সেনারা যোগীহুদা গ্রামের বাড়ি ঘিরে ফেলে নাজিম উদ্দীন ও তার শ্বশুর হাসমত আলীকে অস্ত্রসহ ধরে নিয়ে আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে তাদের খেজুরবাগান ক্যাম্পে। সেখানেই তাদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা আরো জানান, সেই খেজুরবাগান বধ্যভূমি আজো আছে। প্রতিবছর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দিবসে মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের স্মরণ করেন এখানে।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দীন জানান, দেশের জন্য যাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে জীবন দিতে হয়েছে, সেই নাজিম উদ্দীনের পরিবার আজো শহীদ পরিবারের মর্যাদা পায়নি।
পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আব্দুস সাত্তার মুক্তিযুদ্ধে নাজিমের ভূমিকার কথা নিশ্চিত করেন।
যুদ্ধাকালীন কমান্ডার ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নাজিম উদ্দীন দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তার পরিবার শহীদ পরিবারের মর্যাদা পায়নি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।’

আরও পড়ুন