লাখো প্রদীপের আলোয় ভাষাশহীদ-স্মরণ

আপডেট: 07:25:03 21/02/2018



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : ‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’ স্লোগানকে সামনে রেখে মৌলবাদ, কুশিক্ষা, পশ্চাদমুখিনতা আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভাষা শহীদদের স্মরণ করলো নড়াইলবাসী।
শহরের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের মাঠ (কুরিরডোব মাঠে) লাখো মোমবাতি জ্বেলে এবারো ভাষাশহীদদের স্মরণ করেন। এই সঙ্গে ভাষা দিবসের ৬৭তম বার্ষিকীতে ৬৭টি ফানুস ওড়ানো হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কুরিরডোব মাঠের লাখো মোমবাতি একসাথে জ্বলে ওঠে। সেই সাথে ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি /আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গানের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের গণসংগীত শুরু হয়।
‘একুশের আলো, নড়াইল’ এই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। লাখো মোমবাতি দিয়ে ছয় একরের বিশাল কুরিরডোব মাঠ প্রজ্বলন, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় ফুল শাপলা, আল্পনা ও বাংলা বর্ণমালা দিয়ে মাঠ সাজানো হয়।
কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। এসময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাসচন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, নড়াইল পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, একুশ উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব নাট্যকার কচি খন্দকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিকেলে আলোচনা, গণসঙ্গীত, আবৃতি, নান্দনিক পাঠ ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা করেছে স্কয়ার গ্রুপ।
নড়াইলে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ১৯৯৭ সালে নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে প্রথম শুরু হয়।