নিহত ‘জঙ্গি’র বাড়ি কালীগঞ্জে, থাকতেন যশোরে

আপডেট: 02:05:59 18/10/2018



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : নরসিংদীতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহ আল বাঙালির বাড়ি কালীগঞ্জে। তিনি যশোর শহরের একটি মেসে থেকে সরকারি এমএম কলেজে পড়তেন আর পাশাপাশি চাকরি করতেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সোয়াটের অভিযানে তার স্ত্রীও মারা যান।
নিহত আবদুল্লাহ উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। মা মর্জিনা বেগম।
তবে পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি গোলাম মোস্তফা ওরফে রুবেল নামে পরিচিত। তার স্ত্রী ঢাকার গাজীপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন।
সোমবার দিবাগত রাত থেকে নরসিংদী জেলার মাধবদীর ভগীরথপুরে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা হিসেবে দুটি বাড়ি ঘিরে রাখেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় ওই বাড়িতে ‘অপারেশন গার্ডিয়ান নট’ চালানো হয়। এতে নিহত হন আবদুল্লাহ আল বাঙালি ও তার স্ত্রী আকলিমা আকতার মনি। পুলিশের দাবি, নিহত আবদুল্লাহ নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার প্রধান।
র‌্যাবের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ১৬ আগস্টে নিহত আকলিমাসহ তিন নারী র‌্যার-৪ এর হাতে রাজধানীর মিরপুরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। র‌্যাবের হাতে স¤প্রতি তাদের আরেক বান্ধবীও গ্রেফতার হন। তিনি হলেন শাহনাজ আকতার ওরফে সাদিকা। তাকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এই চারজনের মধ্যে মঙ্গলবারের অভিযানে আকলিমা আকতার মনি মারা গেছেন।
পুলিশ বলছে, তারা কয়েক মাস জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, কালীগঞ্জে তার পরিবারের স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ ওরফে মোস্তফা যশোর এমএম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি সেখানে তিনি একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এরপর গত ৮-৯ মাস ধরে তিনি আহলে হাদিস মত অনুসরণ করতে শুরু করেন। ছোট বয়সে তার বাবা মারা যান। এরপর একই গ্রামের আব্দুল মান্নান ওরফে খোকনের সঙ্গে তার মা মর্জিনার বিয়ে হয়। তখন থেকেই আব্দুল্লাহ তার দাদা আক্কাছ আলী ও মায়ের সংসারে যৌথ বসবাস করতো।
আব্দুল্লাহ প্রায় পাঁচ মাস আগে আকলিমা আক্তার মনির সঙ্গে প্রেমজ সম্পর্ক তৈরি করে বিয়ে করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পড়াশোনা করায় তার স্ত্রী বাবার বাড়িতেই থাকতেন। অক্টোবর মাসের ১ তারিখে মোস্তফা ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনদিন থাকার পর স্ত্রীকে নিয়ে যশোর চলে আসেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
চাচা নজরুল ইসলাম জানান, গত ২ অক্টোবর আবদুল্লাহ বাড়িতে বলে যান, কয়েকদিন তার মোবাইল বন্ধ থাকবে। এরপর সাত দিন পার হয়ে গেলেও তার কোনো যোগাযোগ না পেয়ে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা পুত্রবধূর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। কিন্তু ছেলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে অনেকটা মিলে যাওয়ায় বাড়িতে কান্নাকাটি চলছে।
কালীগঞ্জের বেজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘গত ৭-৮ মাস ধরেই মোস্তফার চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল। তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কথা শোনেনি।’
নিহত আব্দুল্লাহর স্ত্রী আকলিমা আক্তার মনির ভগ্নিপতি হাসান আলী বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি তারা দুইজনই নিহত হয়েছে। আমরা নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হয়েছি।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুছ আলী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন