পণ্য পরিমাপে বিজিবি, বেনাপোলে বাণিজ্য বন্ধ

আপডেট: 02:20:59 16/07/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : পণ্যের পরিমাপ (ওজন) করা নিয়ে কাস্টমস ও বিজিবির মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় রোববার দুপুর থেকে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে। 

এর ফলে বন্দরের উভয় পাশে শত শত ট্রাক পণ্য নিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে পোশাক শিল্পের উপকরণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কেমিকেল ও কাঁচামাল রয়েছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ভারত থেকে মাত্র ৩০ গাড়ি পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের পর চেকপোস্ট কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে। 

বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে যে সব পণ্য বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রফতানি হয় চেকপোস্টে তার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতো কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমসের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরাও রোববার সকাল থেকে ওইসব পণ্যের ওজন তদারকি করার জন্য চেকপোস্টে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এর ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মনে করছে, তাদের কাজে বিজিবি হস্তক্ষেপ করছে। 

উদ্ভ‚ত জটিলতার কারণে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

বিজিবি বলছে, আমদানি করা পণ্য ওজন করার জন্য চেকপোস্ট ও টিটিআই গেটে কাস্টমসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব দিয়েছে। বিজিবি এই দায়িত্ব নেওয়ার পর কাস্টমস তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। 

অপর দিকে কাস্টমস বলছে, রাজস্ব সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমসের তদারকি করার কথা। আর বিজিবির সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বন্ধ করবে। কিন্তু বিজিবি আমদানি পণ্য দেখাশুনার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে। যার ফলে ব্যবসায়ীরা কাজ বন্ধ করে দিলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল শত শত ট্রাক পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদি সময়মতো গাড়ি বন্দরে প্রবেশ করতে না পারে তবে ট্রাক প্রতি ২-৩ হাজার টাকা প্রতিদিন ডেমারেজ দিতে হবে। তাছাড়া রোদ বৃষ্টিতে ভিজে পচনশীল পণ্যের ক্ষতি হবে। 

তিনি বলেন, ফল, পেঁয়াজ, মাছসহ নানা ধরনের পচনশীল পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত বিষয়টি একমাত্র জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এর মধ্যে বিজিবির হস্তক্ষেপ সাংঘর্ষিক। এ ঘটনার ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। সুষ্ঠু সমাধান না হলে ব্যবসায়ীরা এ পথে আমদানি-রফতানি করবেন না বলে তিনি জানান। 

এ ব্যাপারে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের পরিমাপ নির্ধারণের জন্য চেকপোস্টে স্থাপিত কাস্টমসের উইনিং স্কেলে বিজিবি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি হচ্ছে বলেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকার সঠিক রাজস্ব পাবে। আমরা কাস্টমসের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করছি না।’

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, ‘আমদানি-রফতানি ও রাজস্ব আদায় নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর থেকে বিজিবি-কে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তারপরও তারা চেকপোস্ট কাস্টমসের উইনিং স্কেলে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাপের দায়িত্ব পালন করছেন। এর প্রতিবাদে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’