আবুল ইসলামের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার

আপডেট: 06:16:08 19/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, গণপরিষদ সদস্য, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য আবুল ইসলামের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। তিনি ২০০৪ সালের এই দিনে মারা যান।
আবুল ইসলাম ১৯৫৫ সালে মৌখিক ভোটে ইউনিয়ন বোর্ডের মেম্বর নির্বাচিত হন। শুরু হয় তার পথ চলা। ১৯৫৮ সালে যশোরের ঝিকরগাছার তৎকালীন বল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বর্তমান নির্বাসখোলা ও হাজিরবাগ ইউনিয়ন) নির্বাচিত হন জনগণের ভোটে। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ফরমানের মাধ্যমে তথাকথিত ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ চালু করেন। যেখানে বলা হয়েছিল, জনগণের সরাসরি ভোটে নয়, ইউপি চেয়ারম্যানদের ভোটে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হবেন। জনগণের সরাসরি ভোটের দরকার নেই। তখন গোটা পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই ফরমানের বিরুদ্ধাচরণ করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে রেজুলেশন করে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠান। তিনি রেজুলেশনে উল্লেখ করেন, ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার তা খর্ব করার এখতিয়ার কারো নেই। চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই রেজুলেশনের কপি স্পিকার ও দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় তাকে নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘সাবাস চেয়ারম্যান’ শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে।
আবুল ইসলাম ১৯৬৬ সালে যশোর বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঝিকরগাছা-মণিরামপুর (চৌগাছাসহ) নির্বাচনী এলাকার প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে আবুল ইসলাম সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯২৪ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ গ্রামে জন্মেছিলেন আবুল ইসলাম। মৃত্যুর পর হাজিরবাগ গ্রামের জামে মসজিদের পাশে পারবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আবুল ইসলামের ছেলে অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিরও সদস্য।
মরহুম আবুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারবারিক ও রাজনৈতিকভাবে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মরহুমের কবর জিয়ারত, হাজিরবাগ জামে মসজিদে দোয়া এবং বিকেল তিনটায় হাজিরবাগ আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন চত্বরে স্মরণসভা।

আরও পড়ুন