তিনি লিজেন্ড তিনি গ্রেট : আসিফ

আপডেট: 01:40:57 23/10/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ‘বাচ্চু ভাইয়ের এবি কিচেন ছিল তরুণ আর অখ্যাত শিল্পীদের দরগাহ্। স্টুডিওতে একটা কনফারেন্স টেবিলের মতো ছিল। উনাকে ঘিরে কোনাকাঞ্চিতেও অবস্থান নিয়ে বসত মজমা। তিনি সবার খবর নিতেন, সবাইকে উৎসাহ দিতেন আর রসিকতা করে পরিবেশটা জমিয়ে রাখতেন। আমি, রূপম আরিফ, স্টিলার ব্যান্ডের জিয়া লিটনসহ প্রচুর পোলাপান বসে থাকতাম উনার সামনে, উনি সবাইকে নিয়ে ভাবতেন।’
কথাগুলো ফেসবুকে আজ সোমবার লিখেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ।
অতীত স্মৃতির ঝোলা খুলে আসিফ বলেন, ‘১৯৯৯ সালে বাচ্চু ভাইয়ের ছোট ভাই ছোট্টু ভাইয়ের গায়ে হলুদে আমরা সবাই গাইলাম পল্টন আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে। তিনি ভিড়ের মধ্যে আমাকে খুঁজে বের করে ধরে নিয়ে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড় করিয়ে দেন। গান গেয়ে পাস মার্ক পাই, তারপর আমরা হয়ে যাই এলআরবির ওয়ার্ম আপ ব্যান্ড, উনাদের শোর আগে আমি গাইতাম। আমার সঙ্গে বাজাতেন পল্লব সান্যাল, ইবরার টিপু, তানিম, সোহেল (ইফতি) আর মানিক।’
আসিফ আরো বলেন, ‘বাচ্চু ভাই আমাকে প্রথম শো দিলেন ঢাবির রোকেয়া হলে। এলআরবি পারফর্ম করার আগে ছয়টা গান গেয়ে আবারো পাস মার্ক পাই। তারপর সুযোগ দিলেন বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের একটি শোতে। সেখানে তিনি আমাদের সাথে ড্রামস এবং গিটার বাজিয়েছেন সেশন মিউজিশিয়ানের মতোই, এসব কর্মকাণ্ড উনাকে দিয়েই সম্ভব। আইয়ুব বাচ্চু কিচেনে শুধু রান্নাই হয়েছে, সেই রান্না থেকে আমাদের মতো কিছু বেকার স্বপ্নবিলাসী তরুণের মধ্যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাসা বেঁধেছে। উনার মতো এনারজেটিক হওয়া অসম্ভব। এজন্যই তিনি লিজেন্ড, তিনি গ্রেট আইয়ুব বাচ্চু। সশ্রদ্ধ সালাম। ভালোবাসা অবিরাম।’
আইয়ুব বাচ্চু গত বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। হৃদরোগের কারণে আইয়ুব বাচ্চু গত কয়েক বছর বার বারই হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ২০০৯ সালে তার হার্টে রিং পরানো হয়। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে শেষবার তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।
জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক।
সূত্র : এনটিভি