পলাশ হত্যার বিচার দাবি মুক্তিযোদ্ধা বাবা স্ত্রীর

আপডেট: 08:30:51 22/11/2017



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ইয়াসির আরাফাত পলাশ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। বুধবার বেলা পৌনে ১২টায় শহরের ভাস্কর্য মোড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের আয়োজনে মানববন্ধনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান কবীর, উপজেলা মুুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. নূর হোসেন, সাবেক কমান্ডার শওকত আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুস সালাম, নিহতের বাবা মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, মা শাহিনুর বেগম, স্ত্রী শারমিন সুলতানা, ছয় বছর বয়সী কন্যা ফাতেমা-তুজ-জারা, দুই বছর বয়সী ছেলে জারিফ, একমাত্র ভাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষার্থী শিবলী সাদিক পিয়াস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের যুগ্ম-কমান্ডার কিতাব আলী, শহিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল ইসলাম, হায়দার আলী, আলিমুদ্দিন, আশরাফ আলী, আরজান আলী, মতিয়ার রহমান, মোফাজ্জেল হোসেন, ইমদাদুল হক সুফিসহ উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও তাদের সন্তানরা অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে নিহতের বাবা মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত বক্তব্য সরবরাহ করেন।
সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ২ নভেম্বর কর্মরত অবস্থায় যাত্রাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। তাকে খুন করে তার সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, স্মার্ট ফোন, মানিব্যাগসহ সরকারি মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একটি মহল মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা মনগড়া কাহিনি প্রচার করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মৃত্যুর আগে দেলোয়ার হোসেন দাদন বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে এসেছে। আমার ছেলে তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি জিডিও করেছিল। আমি অবিলম্বে আমার ছেলের হত্যাকারী, মদদদাতা এবং পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ এবং আমার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’
মানববন্ধনে উপস্থিত পলাশের স্ত্রী শারমিন সুলতানা আবেগঘনভাবে প্রশ্ন রাখেন, ‘পুলিশ বলছে মাত্র আড়াই হাজার টাকার জন্য আমার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। তাহলে এখনো তার সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল যার মূল্য দুই লাখ টাকার উপরে, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ এবং মানিব্যাগ খুনিরা নিল কেন?’
তার দাবি পলাশের কাছে কেউ কোনো টাকা পাবেন না।
তিনি বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন দাদনের বিরুদ্ধে আমার স্বামী মৃত্যুর আগে চৌগাছা থানায় একটি জিডি করেছিলেন। পুলিশ সেটি আমলে নেয়নি কেন? তিনি আমাকে বলেছিলেন, তার কেউ কোন ক্ষতি করলে সেটি দাদনই করবে।’
তবে পুলিশের দাবি, বিধান নামের এক ব্যক্তি পলাশের কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। সেই টাকার জন্য পলাশকে খুন করেছেন বিধান।
পুলিশ দাবি করেছে, বিধানের সহযোগী সন্ন্যাসী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন