দেশি মাঝারি গরুর আধিক্য ঝিনাইদহের হাটে

আপডেট: 09:23:03 17/08/2018



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠেছে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার পশুহাটগুলো। ‘ভালো দামে’ নিজের কষ্টে পালিত পশু বিক্রি করতে হাটে আসছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে পছন্দের পশু কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন হাটে।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবার জেলায় কুরবানির পশুহাট বসেছে ২৭টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সাতটি, শৈলকুপায় আটটি, হরিণাকুণ্ডুতে তিনটি, কালীগঞ্জে তিনটি, কোটচাঁদপুরে দুটি এবং মহেশপুরে চারটি হাটের অবস্থান।
সকাল থেকেই হাটগুলোতে পশু নিয়ে হাজির হচ্ছেন খামারি ও গরু পালনকারীরা। ভারতীয় কোনো গরু এসব হাটে দেখা যায়নি। দুপুরের পর থেকে উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে ক্রেতাদের। হাট ঘুরে দেখে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে গরু কিনছেন ক্রেতারা। এবার বাজারগুলোতে বড় আকারের গরুর সরবরাহ নেই বললেই চলে। ছোট ও মাঝারি গরুর সরবরাহই বেশি। এসব হাটে ৪০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যেই মিলছে নানা আকারের গরু।
শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর পশুহাট। জেলাব্যাপী এটি পরিচিত কবিরপুর পশুহাট নামে। ১৯৯৩ সালের দিকে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি নিজেদের পালিত গরু বিক্রি করতে এখানে নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে এই হাট বড় আকার ধারন করে। বর্তমানে এই হাটটির আয়তন প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে। প্রতি হাটে এখান থেকে গড়ে সাড়ে চারশ’ গরু বিক্রি হচ্ছে; যার মূল্য আনুমানিক তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। ঝিনাইদহের সব পশুহাটের একই অবস্থা কমবেশি একই রকম।
এ জেলার ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুর। এই উপজেলায় ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। যার মধ্যে কাঁটাতারবিহীন এলাকা রয়েছে সাড়ে ১১ কিলোমিটার। এই কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে বিজিবি-বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের বিভিন্ন সময় কিছু অসাধু ব্যক্তি বাংলাদেশে গরু পাঠাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। এই গরু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকার পশুহাটে।
গরু কিনতে আসা শৈলকুপা উপজেলা শহরের বাসিন্দা তাজনুর রহমান ডাবলু বলেন, ‘কুরবানির জন্য গরু কিনতে এসেছি। ঘুরে ঘুরে দেখছি কোনটি কেনা যায়। তবে দাম এবার খুব একটা বেশি না। মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই আছে।’
‘আমরা হাটে কোনো ভারতীয় গরু দেখছি না। আর ভারতীয় গরু আসলেও কিনবো না। আমরা দেশি গরু কিনতে চাই,’ বলছিলেন ক্রেতা ডাবলু।
অপর ক্রেতা মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু জানান, ৫৪ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন কুরবানির জন্য। দাম স্বাভাবিক। হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যথেষ্ট ভালো। কোনো বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি।’
এদিকে, গরু বিক্রি করতে আসা ঝিনাইদহ সদরের কলমখালি গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জানান, ছয় মাস আগে একটি গরু ৪৭ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। গরুর খাবার বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এবার কুরবানির হাটে গরুটি বিক্রি করেছেন এক লাখ টাকায়। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা।
অপর গরু বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি একটি গরু বিক্রির জন্য হাটে এনেছেন। ৮০ হাজার টাকা হলে গরুটি বিক্রি করবেন।
তবে হাটে গরু বিক্রি করতে আসা বেশ কিছু খামারি বললেন, বিগত বছরগুলোতে বড় আকারের গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায়নি। দেখা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। তাই এবছর তারা মাঝারি সাইজের গরু পালন করেছেন।
তারা জানান, এখন পর্যন্ত বাজারে গরুর দাম ভালো। তবে শেষ মুহূর্তে যদি ভারতীয় গরু আসে তাহলে দেশি গরুর দাম পড়ে যাবে। খামারিরা অনেক লোকসানের মুখে পড়বেন। তাই সরকারের কাছে তাদের জোর দাবি, ভারতীয় গরু যেন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে।
কবিরপুর হাট ইজারাদার নিখিলকুমার অধিকারী বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে পশু কেনা-বেচা চলছে। পুলিশের পাশাপাশি আমাদের লোকজনও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।’
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস বলেন, কুরবানির পশুহাটের নিরাপত্তায় পুলিশ কর্মকর্তা ও হাট ইজারাদারদের মধ্যে বিশেষ সভা হয়েছে। এসআই ও এএসআই পদমর্যাদার ছয় থেকে আট সদস্যের একটি করে টিম প্রতিটি হাটে টহল দিচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নিরাপত্তার সাথে পশু কেনা-বেচা ও টাকা পয়সা লেনদেন করতে পারে, তেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তের জন্য হাটে মেশিন বসানো হয়েছে। ছিনতাইকারী বা মলম পার্টির দৌরাত্ম বন্ধে সাদা পোশাকেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। হাটগুলোতে এখনো কোনো টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহ ৫৮ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। তবে কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি গরু ঢুকছে। সেগুলোও প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে ৩০টিরও বেশি ভারতীয় গরু আটক করেছে বিজিবি।

আরও পড়ুন