খোলা আকাশের নিচে বাবাকে বেঁধে রেখেছে ছেলে

আপডেট: 04:01:04 22/11/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরে বাবাকে বহুদিন ধরে শেকল পরিয়ে খোলা আকাশের নিচে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছে পাষণ্ড ছেলে।
চার মাস ধরে ইউনুস আলীকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর সন্তান ইয়াকুব বিল্লাহ নিশ্চিন্তে রাতযাপন করেন পাকাঘরে। খবর নেন না তার স্ত্রীও।
পরিবারের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। আর হারিয়ে যেতে পারে বিধায় তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। 
ইউনুসের বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম অন্য ছেলের সংসারে থাকলেও মাঝেমধ্যে ইউনুসকে খাবার দিয়ে যান।
মঙ্গলবার মণিরামপুর উপজেলার মাছনা গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, পুকুর পাড়ের কাঁঠাল গাছের নিচে সিমেন্টের কাগজের উপর শুয়ে আছেন ইউনুস আলী। তার কোমরে শিকল জড়ানো। সেটা বেঁধে রাখা হয়েছে গাছের সাথে। কাছে যেতেই উঠে বসেন তিনি। নাম জিজ্ঞাসা করতেই বলেন,'আমি ইউনুস আলী। পিতার নাম মৃত ফজলুর রহমান।'
৪/৫ মাস ধরে এখানে শিকল দিয়ে বাঁধা তিনি। ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ ও পুত্রবধূ আসমা তাকে বেঁধে রেখেছে। তারা খেতেও দেয় না। মাঝে মধ্যে মা খাবার দিয়ে যায়-বলেন ইউনুস।
ইউনুস আলী বলেন, 'ছেলে ইয়াকুব ও স্ত্রী আকলিমা আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেছে। আমার লাগানো গাছ বিক্রি করে দেছে। এখন ডাক্তার না দেখায়ে আমারে শিকল দিয়ে বান্ধে রাইখেছে।'
ইউনুস আলীর কথা শুনে মনেই হচ্ছিল না তিনি মানসিক রোগী।
এদিকে, গণমাধ্যম কর্মী দেখে এগিয়ে আসেন পাশের বাড়ির কওছার আলী। তিনি বলেন, 'আট বছর আগে হঠাৎ ইউনুস আলী মানসিক ভারসাম্যহীন হলে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। কিন্তু ইউনুসের তেমন কিছু হয়নি জানিয়ে চিকিৎসকরা ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। তারপর মাঝেমধ্যে অসুস্থ হন; আবার চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে যায় ইউনুস।
প্রতিবেশী আব্দুল গনি বলেন,'গেল বড় বৃষ্টি-কাঁদার মধ্যে ওই পুকুর পাড়েই শিকল বাঁধা অবস্থায় খেয়ে না-খেয়ে দিনরাত কেটেছে ইউনুস আলীর। অথচ কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি তার স্বজনরা।'
কথা হয় ইউনুস আলীর বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগমের সাথে। তিনি বলেন,'ছেলেকে এভাবে মাসের পর মাস গাছে বেঁধে রেখে খেতেও দেয় না তার বউ ও ছেলে। আমি মাঝে মধ্যে খাবার দিয়ে আসি। ছেলের কষ্ট দেখে আর সহ্য করতে পারছি না।'
বাড়িতে পুত্রবধূ আসমা ছাড়া কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, তার শ্বশুরকে তারা খাবার দিলেও তিনি তা খান না।
আর ছেলে  ইয়াকুব বিল্লাহার দাবি, টাকা পয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন,'বহুদিন ধরে ইউনুসকে পুকুর পাড়ে বাঁধা অবস্থায় দেখি। শুনেছি, সে পাগল হয়ে গেছে। কিন্তু সময়ের অভাবে খোঁজ নিতে পারিনি।'

আরও পড়ুন