জিয়া পরিবার জড়িত, সন্দেহ নেই : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: 03:23:10 21/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৪ বছর আগে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচিতে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় যে ‘জিয়া পরিবার জড়িত ছিল’, সে বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই।
‘হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মধ্য দিয়ে উত্থান’ হওয়া বিএনপি কখনো দেশের কল্যাণ করতে পারে না বলেও দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে বিএনপি-জামাত জোট ওই গ্রেনেড হামলা চালায়।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের যে জায়গায় সেদিন ওই হামলা হয়েছিল, সেখানে মঙ্গলবার সকালে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের যে চেষ্টা; এর সাথে বিএনপি যে একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, খালেদা জিয়া, তার ছেলেরা যে জড়িত তাতে কোনো সন্দেহ নাই।”
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার কর্মসূচি ছিল। শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরপরই তা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসী গ্রেনেড হামলায় স্তব্ধ হয়ে যায় সন্ত্রাসবিরোধী সেই কর্মসূচি।
সেদিন বেঁচে গেলেও স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমান বসে ছিলেন ট্রাকে তৈরি মঞ্চের পাশে কর্মীদের সঙ্গে। প্রাণ হারান তিনিসহ ২৪ জন। যারা আহত হন, তাদের অনেকে চিরতরে পঙ্গু হন, ঘটে অঙ্গহানি।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে চালানো ওই হামলার লক্ষ্য যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাই ছিলেন, তা পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
সে সময় এই ঘটনার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয় বলে পরে উন্মোচিত হয়, আসামি হিসেবে এখন বিচারের সম্মুখীন ওই সময়ের তদন্ত কর্মকর্তারাও।
অধিকতর তদন্তের পর এখন এই মামলার আসামির তালিকায় তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে যোগ হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমানও। ওই মামলার বিচার শিগগিরই শেষ হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন।
ওই হামলার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বিরোধী দলে।
সেদিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “প্রকাশ্যে এরকম হামলার ঘটনা ঘটার কোনো দৃষ্টান্ত আমার মনে হয় নেই।… সেদিন হামলাকারীরা যেভাবে এখানে এস হামলা করল, স্বাভাবিকভাবেই সবাই বুঝতে পারল, কারা এর পেছনে রয়েছে।”
খালেদা জিয়াকে উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা বলেছিলেন, ১৫ আগস্ট যেভাবে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে, আমি নাকি সেই একই পথে যাব। খালেদা জিয়া আরেকটা বক্তৃতায় আমার নাম নিয়ে বলেছিলেন, ‘হাসিনা সে প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না।’
“এবং তার পরেই কিন্তু ওই হামলা। খুব স্বাভাবিকভাবে যে কোনো মানুষের কাছে এটা উপলব্ধি হবে, আমাকে তো মারবেই মারবে, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে, যাতে আওয়ামী লীগ আর শত বছরেও ক্ষমতায় যেতে না পারে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে এরকম একটি ঘটনা ক্ষমতায় থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটই ঘটিয়েছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওইরকম একটি হামলার পর আলামত সংগ্রহ করার নিয়ম থাকলেও তখনকার সরকার আর পুলিশ লিপ্ত হয়েছিল আলামত নষ্ট করার কাজে। হামলায় আহতদের সাহায্য করতে আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরা যখন ছুটে গেলেন, তখন পুলিশ তাদের ওপর টিয়ার শেল ছোড়ে।
“এখানে ডিজিএফআইয়ের এক অফিসার কর্মরত ছিল, সে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে ফোন করে জানতে চায়- এটা কী হচ্ছে? এটা কেনো হচ্ছে? তাকে ধমক দিয়ে বলা হয়েছিল, তোমার ওখানে কী কাজ? তুমি ওখান থেকে সরো।
“যে সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তা সাহায্য করতে চেষ্টা করেছিল, বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে তিরস্কার করা হয়েছিল। তাদেরকে সরে যেতে বলা হয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সাধারণত যেখানে সমাবেশের দিন ট্রাক রাখা হয়, সেখান থেকে ট্রাকটি সেদিন সামান্য সামনে ছিল বলে তিনি গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।
“আমার এটা মনে হয়, আল্লাহর কোনো একটা ইশারা ছিল। নইলে আমরা যেখানে ট্রাক দাঁড়া করাই সেখানে যদি থাকত, তাহলে কিন্তু ওই গ্রেনেডটা আমাদের ট্রাকের ভেতরে এসে পড়ত।”
তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মমাফিকভাবে সমাবেশের আগে বিভিন্ন ভবনের ছাদে আওয়ামী লীগের ভলান্টিয়াররা নিয়োজিত থাকলেও সেদিন তাদের কাউকে ছাদে উঠতে দেওয়া হয়নি।
বিএনপি সরকার শুরুতে ওই সমাবেশের অনুমতি না দিলেও পরে ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টায় সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “জানতাম না, এর পেছনে একটা ষড়যন্ত্র আছে।”
এরকম একটি হামলা যে হতে পারে, ১৫ আগস্ট সে আভাস পেয়েছিলেন বলেও জানান তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা।
“আমার কাছে ছোট্ট একটা চিরকুট আসে। ধানমন্ডির পাঁচ নম্বরে তারেক জিয়ার যে খালাশাশুড়ির বাড়ি, তারেক জিয়া তখন সেখানে থাকে। এর আগে নয় মাস ছিল। পরে পহেলা আগস্ট আবার চলে এসে। পনের আগস্ট গভীর রাতে গাড়ি এসে বড় বড় পেটি নামায়, বোরকা পরা লোক এসে জিপে করে পেটি নিয়ে চলে যায়।
“কাজী জাফরউল্লাহ সাহেব তখন ছিলেন। তাকে বললাম, ওই বাড়িতে কী হচ্ছে খবর নেন। তিনি বললেন, পরদিন র্যালি আছে, পরে খবর নেবেন। তারপরই তো ওই হামলা।”
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন