সাজা স্থগিত ও জামিনের আবেদন খালেদার

আপডেট: 03:29:16 19/11/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া দশ বছরের সাজার রায় স্থগিতের আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।
সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এই আবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্যও আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “একটি মিথ্যা, বানোয়াট, ভুয়া মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। ভেবেছিলাম এখানে প্রতিকার পাবেন।
“কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে হাই কোর্টে এ মামলার শুনানির জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হলো। পাক-ভারত উপমহাদেশে এটা নজিরবিহীন ঘটনা। তাছাড়া আমরা আমাদের আপিল শুনানি শেষ করার আগেই রায়ের দিন ঘোষণা করা হলো। দুদকের সাজা বাড়ানোর আবেদনেও আমরা শুনানি কমপ্লিট করতে পারিনি। সে অবস্থায়ই রায় ঘোষণা করা হলো।”
রায়ে বিচারিক আদালতের সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার ঘটনাও ‘নজিরবিহীন’ দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, “আপিলে সাধারণত সাজা কমে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বেলায় সেটারও ব্যতিক্রম হলো। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”  
জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে জজ আদালতের দেওয়া সাত বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করার পরদিন এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় হাই কোর্টের রায় স্থগিতের এই আবেদন করা হলো।
বিএনপি নেতারা আশা করছেন, এই দুই মামলায় সাজার রায় স্থগিত হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ তৈরি হবে।
ইতিমধ্যে তার নামে তিনটি আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে রেখেছেন বিএনপি নেতারা। 
বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি দশ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলার রায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। ওই রায়ের পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
জজ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল এবং দুদকের করা রিভিশন আবেদনের শুনানি করে গত ৮ নভেম্বর রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ। তাতে খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এ মামলার মুখ্য আসামি। অন্য আসামিদের যেখানে দশ বছরের সাজা হয়েছে, মুখ্য আসামি তার চেয়ে কম সাজা পেতে পারেন না।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন সেদিন বলেছিলেন, সাজা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে তারা ‘হতবাক’, খালেদা জিয়া কোথাও ন্যায়বিচার ‘পাননি’।
খালেদা জিয়া কোথাও ন্যায়বিচার ‘পাননি’ মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা হতবাক। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় কেবল এটাই বলব।”
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ২০০৮ সালে, জরুরি অবস্থার মধ্যে।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন