দলীয় নেতার বিরুদ্ধে শার্শা আ. লীগের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: 02:53:28 02/10/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইবাদত আলী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের জড়িয়ে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ।
সম্মেলনে এই ঘটনায় জড়িত কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে নেতারা এক আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে ইঙ্গিত করেছেন।
সোমবার বেলা ১১টার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. ইবাদত আলীকে ২০০১৪ সালের ৪ এপ্রিল সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশে অপহরণ করে। অপহরণকারীরা তাকে একটি চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় ইবাদত আহত হলে তাকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে একদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর বেনাপোলের এক উঠতি আওয়ামী লীগ নেতা ও কথিত জনপ্রতিনিধির পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাকে ঢাকার মহম্মদপুরে একটি অখ্যাত বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ১৭ দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসা চলাকালে স্থানীয় দলীয় নেতাদের বলা হয়, ইবাদত সুস্থ আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এই হত্যার সঙ্গে ‘কথিত ওই জনপ্রতিনিধি’ সরাসরি জড়িত। পরবর্তিতে কথিত ওই জনপ্রতিনিধির পরামর্শে এবং নির্দেশে মৃত ইবাদত আলীর ভাই ওই বছরের ২৩ এপ্রিল অজ্ঞাত আসামিদের নামে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি রুজু হওয়ার কয়েক মাস পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তার তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। কিন্তু চার্জশিট দাখিলের ছয় মাস পর ওই ‘নব্য আওয়ামী লীগ নেতা কথিত জনপ্রতিনিধি’র নির্দেশে মামলার বাদী চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি পিটিশন দেন। পুনঃতদন্তে চক্রটি পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মো. মাহাতাব উদ্দীন, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. ওহিদুজ্জান অহিদ এবং বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মো. জুলফিক্কার আলি মন্টুকে ওই মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কোনো এক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে ‘চক্রান্তে জড়িত’ বলে অভিযোগ আনা হলেও তার না প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কথিত অভিযুক্ত ওই নেতার বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক হাজী নাসির উদ্দীন, ইউনিয়ন সভাপতি তাহাজ্জেল হোসেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুর রহমান, চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, আলহাজ সালেহ আহম্মেদ, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রহিম সরদার প্রমুখ।

আরও পড়ুন