গাভী পালনে দিবসের সাফল্য

আপডেট: 01:46:26 12/12/2017



img

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সাতক্ষীরা) : গাভী পালন করে বড় ধরনের সাফল্য লাভ করেছেন দিবস ঘোষ। তিনি তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের জেয়ালা ঘোষপাড়ার জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঘোষের ছেলে।
গাভী পালন করে ইতিমধ্যে তিনবার জাতীয় পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন দিবস। বর্তমানে তার দুগ্ধ খামারে গাভীর সংখ্যা ৪২।
তিনি জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০০৯, শ্রেষ্ঠ সমবায়ী পুরস্কার (মিল্ক ইউনিয়ন)-২০০৯, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার (ব্রোঞ্জ পদক)-২০১০, জাতীয় শ্রেষ্ঠ সমবায়ী পুরস্কার (মিল্ক ইউনিয়ন)-২০১০, বিভাগভিত্তিক শ্রেষ্ঠ সমবায়ী পুরস্কার-২০১০, জাতীয় সমবায় সম্মাননা ২০১১, জেলা পর্যায়ে দুগ্ধ উৎপাদনকারী পুরস্কার (২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত) অর্জন ছাড়াও তালা উপজেলা পর্যায়ে ২০১৭ পর্যন্ত প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ সমবায় পুরস্কার পাচ্ছেন।
দিবস ঘোষ তার গ্রামে বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তুলেছেন দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামার। তিনি ১৯৮০ সালে সামান্য টাকায় একটি ছাগল কেনেন। এক পর্যায়ে তার খামারে ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় দেড় শতাধিক।
দিবস জানান, ছাগল পালনে সাফল্য লাভের পর তিনি ১৯৮৯ সালে বাণিজ্যিকভাবে গাভী পালন শুরু করেন। প্রথমে দেশি তিনটি গাভী বিক্রির আট হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে কেনের বিদেশি জাতের একটি গাভী। ২০১৩ সাল নাগাদ তার খামারে গাভীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫টিতে। এক পর্যায়ে ২০টি গাভী বিক্রি করে জমি কেনেন। বর্তমানে তার খামারে গাভীর সংখ্যা ৪২। এর মধ্যে ১৭টি গাভী দৈনিক দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৪০ লিটার দুধ দিচ্ছে। প্রতি কেজি দুধ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা দরে।  গাভী পালন করে তিনি প্রতি বছর ৩-৪ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেন।
দিবস ঘোষ বলেন, ‘আমি গাভী পালন করে তিনটি ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া করিয়েছি। বড় ছেলে ঢাকা ভার্সিটি থেকে এমবিএ করে মিল্ক ভিটার মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছে। অন্য ছেলে এবং মেয়ে লেখাপড়া করছে। আমি দুগ্ধখামার করে সুখে আছি। আমার কোনো অভাব নেই।’
দিবস ঘোষ একাধারে খলিলনগর জেয়ালা ঘোষপাড়া দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতি ও তালা উপজেলা কেন্দ্রীয় দুগ্ধ সমবায় সমিতির সভাপতি। তিনি ভারতের গুজরাটে গাভী পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।