সাবু-মারুফ কখন কোথায় গ্রেফতার

আপডেট: 04:04:35 15/06/2018



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদা পোশাকে থাকা একদল পুলিশ যশোর জিলা স্কুলের প্রধান গেটের কাছ থেকে ধরে নিয়ে যায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং নগর সভাপতি ও সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলামকে। সেই সময় এই দুই নেতা ছাত্রদলের উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ করতে মুজিব সড়কের নির্ধারিত স্থানে গিয়েছিলেন।
অথচ পুলিশ এই দুইজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কাছ থেকে। তাদের বিরুদ্ধে রুজু করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘০১টি ছোট প্লাষ্টিকের বোয়ামের মধ্যে ৫০ (পঞ্চাশ) গ্রাম বারুদ, ০১ (এক)টি সাদা ছোট প্লাষ্টিকের বোয়ামের মধ্য ২৫০ গ্রাম গন্ধক, ০১টি ছোট প্লাষ্টিকের সাদা বোয়ামের মধ্যে ৫০০ গ্রাম জালের কাঠি, একটি ছোট প্লাষ্টিকের সাদা বোয়ামের মধ্যে ৫০০ গ্রাম কাচের মার্বেল, ০১টি সাদা পলিথিনের মধ্য ১৭টি খালি জদ্দার কৌটা, ০১টি বাজার করা প্লাষ্টিকের ব্যাগ’ জব্দ করা হয়েছে।
এজাহার মতে, বিস্ফোরকজাতীয় এসব দ্রব্য ছিল মারুফুল ইসলাম মারুফের হাতে থাকা একটি ব্যাগে। আর ঘটনার সময় ১৪ জুন ১৫:৩৫।
পুলিশের এই অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডে বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ মানুষের। তারা বলছেন, বহু লোকের সামনে বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে পৌনে ছয়টার মধ্যে জিলা স্কুলের গেটের কাছে মুজিব সড়ক থেকে ধরে নেওয়া হয় মারুফ-সাবুকে। এই দুই নেতাকে পুলিশের ব্যবহৃত গাড়িতে ওঠানোর ছবিতেও যশোর জিলা স্কুলের নামসম্বলিত প্রধান ফটক দেখা যাচ্ছে। একই মানুষকে প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই স্থান থেকে কীভাবে আটক করা সম্ভব, তা বুঝতে পারছেন না অনেকে।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আবুল বাশার বলছেন, নাশকতার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভিযোগে সাবু-মারুফসহ সুনির্দিষ্ট ৪১ আসামি ছাড়াও আরো ১৫-২০ জনের নামে বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় মামলা হয়। এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, স্বেচ্ছাসেবকদলের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, একই সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা বদিউজ্জামান ধনি, ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটির জেলা সেক্রেটারি নাজমুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের সেক্রেটারি আনসারুল হক রানা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মলকুমার বিট, জেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়নের ছেলে রিপন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নূরুন্নবী, কাউন্সিলর রাশেদ আব্বাস রাজ প্রমুখ। এই মামলার বাদী কোতয়ালী থানার এসআই মো. নুর উন নবী।
এদিকে, আজ শুক্রবার দুপুরে জেলা বিএনপির সেক্রেটারি সাবেরুল হক ও নগর সভাপতি মারুফুল ইসলামকে উল্লিখিত মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. বুলবুল হোসেন তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন