কেটে নেওয়া গাছ কি সরকারি না ব্যক্তি মালিকানার

আপডেট: 09:34:33 23/10/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে লক্ষাধিক টাকা দামের রাস্তার আটটি মেহগনিগাছ কেটে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গাছগুলো সরকারি নাকি ব্যক্তি মালিকানাধীন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাশিমনগর ইউনিয়নের শিরালীমদনপুর এলাকার একটি কাঁচা রাস্তার পাশ থেকে গাছগুলো কেটে নিয়েছেন লুৎফর রহমান নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী। ওই এলাকার মোমিন ও ইসমাইল মোড়লসহ তাদের শরিকরা গাছগুলো বিক্রি করেছেন। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী এবং ওই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শরিফুল ইসলামের নির্দেশেই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিকে, রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিসে পৌঁছুলে সঙ্গে সঙ্গে নায়েবকে পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। ততক্ষণে পাঁচটি গাছ সরিয়ে ফেলা হয়। বাকি তিনটি গাছ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মোমিন মোড়ল ও তার ছয়জন শরিক কাশিমনগর ইউনিয়নের শিরালীমদনপুর গ্রামের একটি রাস্তার পাশ থেকে ১৬টি মেহগনিগাছ প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেন যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কাঠ ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানের কাছে। ৫-৭ দিন আগে ব্যাপারি তার লোকজন দিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যান। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তখন গাছ কাটা বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর রোববার মোমিন মোড়ল ও তার লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে এসে চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলীকে বিষয়টি জানালে তিনি তাদের গাছ কাটার পরামর্শ দেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পেয়ে ব্যাপারি সোমবার সকালে গাছ কাটা শুরু করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিয়ার উপস্থিত থেকে গাছ কাটাচ্ছিলেন বলে এলাকাবাসী জানান।
পরে অবশ্য বিকেলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। এসময় তারা নায়েবের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এবিষয়ে মোমিন মোড়ল বলেন, ‘আমাদের জমির গাছ আমরা কাটছি। তাছাড়া চেয়ারম্যানতো আমাদের গাছ কাটতে অনুমতি দেছে।’
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী বলেন, ‘রোববার ওরা পরিষদে আসে। সাথে সাথে আমি নায়েবকে ডাকি। পরে নায়েব আর আমি মিলে তাদের জমির ওপরের গাছ কাটতে বলেছি। তবে, রাস্তার গাছ কাটতে নিষেধ করেছি।’
চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘পরে শুনতেছি, ওরা রাস্তার গাছ কাটছে। তখন নায়েবকে বলেছি, গাছ কাটা বন্ধ করে দিতে।’
এদিকে স্থানীয় ভূমি অফিসের নায়েব শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ওদের রাস্তার গাছ বাদ দিয়ে অন্য গাছ কাটতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা তা না শুনে রাস্তার গাছ কাটছে।’
পরে গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নায়েব শরিফুল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বলেন, ‘নায়েব গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সার্ভেয়ার গিয়ে বিষয়টি দেখবে। রাস্তার গাছ কাটা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন