শাসক জোটে প্রার্থীজট, বিএনপিতে হাবিব একক

আপডেট: 02:37:23 11/11/2018



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা-১ (জাতীয় সংসদ-১০৫) তালা ও কলারোয়া আসনটি একটি পৌরসভা ও ২৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ২২ হাজার ৮৯৮।
গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীসহ মহাজোটের প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন। এমনকি তারা আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোট উপলক্ষে গণসংযোগও শুরু করেছেন বেশ জোরেসোরেই। প্রতিদিন নির্বাচনী পথসভা, মতবিনিময়, কর্মিসমাবেশ, লিফলেট বিতরণসহ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করছেন মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মসূচিতেও উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান চালিয়ে যাচ্ছেন সরকার দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিকে এ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীক নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে হটিয়ে এ আসনে নিজেদের মধ্য থেকেই প্রার্থী দেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা।
আর বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে এ আসনের একক প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত হয়েই আছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত হাবিবুল ইসলাম ছাড়া এখন পর্যন্ত বিএনপির আর কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। তাই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। তবে হাবিব বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এখন কারাগারে আছেন।
তবে আওয়ামী লীগের চিত্র একেবারে বিপরীত। ২০০৮ সালে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে হারিয়ে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের একাংশের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় সৈনিকলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুজিবের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত ছিল এ আসনটি। জেলার সবচেয়ে রাজনৈতিক সহিংসতাপ্রবণ এ আসনকে কেন্দ্র করেই বলতে গেলে জেলার রাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। এমনকি এ আসনে জেলার সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতি। ২০০৮ সালের আগে এ আসনে একবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত সৈয়দ কামাল বখত ছাকি, উপ-নির্বাচনে একই দলের বিএম নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, জামায়াতের প্রার্থী আনছার আলী এবং দুইবার বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব জয়লাভ করেন।
গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা, প্রতীক বরাদ্দের চিঠি পাওয়ার পরও জোটের স্বার্থে আকস্মিকভাবে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শরিক দল ওয়ার্কার্স পাটির নেতা মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে প্রার্থী করেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভ করেন।
অন্যদিকে সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি ও এর জোট শরিক জামায়াত বর্তমান সরকারের সময়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামলার কারণে বহু নেতাকর্মী এখনো এলাকাছাড়া। সেকারণে দুটি দলই কোণঠাসা।
এই আসনে জামায়াত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটার প্রায় সমান। ফলে জামায়াত ও বিএনপি জোট থেকে যদি সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রার্থী হন. তাহলে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের অনেক হিসাব-নিকাশ করেই প্রার্থী মনোনীত করতে হবে বলে রাজনৈতিক মহলে বলাবলি হচ্ছে। তা না হলে এ আসনটি নিশ্চিতভাবেই হারাবে আওয়ামী লীগ।
এমন প্রেক্ষাপটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জাতীয় পার্টির সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ কামাল বখত ছাকির ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি, কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আলহাজ শেখ আমজাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মন্ময়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুজ্জামান সোহাগ, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট অনিতকুমার মুখার্জি, বিশ্বজিৎ সাধু, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহসান কবীর টুটুল ও জাসদের ওয়ায়দুস সুলতান বাবলু। মাঠে আছেন জাতীয় পার্টির কলারোয়া উপজেলার সাবেক সভাপতি ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এম মুনছুর আলীও।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার পর মামলা-হামলায় সাংগঠনিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নীরবে তাদের তৎপরতা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচনে এলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, গত নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত এ এলাকায় যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা বন্ধ করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এমপি হওয়ার পর তালা-কলারোয়ার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে দুর্নীতিমুক্ত করে কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ সম্পন্ন করেছেন। যে কারণে তালা ও কলারোয়ায় এবার জলাবদ্ধতা নেই বললেই চলে। দলীয় কোন্দল, দলবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে নিজে জড়িত না থাকা এবং এটাকে স্বাভাবিকভাবে করতে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চাঁদামুক্তভাবে ব্যবসা করছেন, কোনো হয়রানির শিকার হননি। এর আগে তালা-করারোয়ায় বিভিন্ন তেল পাম্প, ইটের ভাটা, গরুর খাটাল, দোকানদারদের কাছ থেকে কালো টাকা নিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। তার সময় তিনি এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সবক্ষেত্রে যে দুর্নীতিমুক্ত করতে পেরেছেন, এমনটি দাবি করেন না বর্তমান সংসদ সদস্য। তার দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছেন এবং নিজে দুর্নীতিতে জড়াননি।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি আওয়ামী লীগের তৃণমমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো আছে বলে মন্তব্য করেন।
দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান ২০০০ সালে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন। এই দায়িত্ব একটানা ১৫ বছর পালন করেছেন তিনি। এরই মধ্যে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কাছে পরাজিত হন। তবে এক লাখ ১৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। পরে ২০০৮ সালে এ আসন থেকে তিনি এক লাখ ৭০ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় এবং জাতীয় পার্টি ১৪ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়ালে জোটের স্বার্থে অন্য শরিক দলের দাবিতে এ আসনটিতে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে নেত্রী ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে মনোনয়ন দেন। তবে মনোনয়ন না পেলেও এলাকার নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে আছি।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশী কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ দাবি করেন, ২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপির ‘নাশকতা’ তার একক নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করেছেন। সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে তার ধারণা।
দলীয় মনোনয়ন-প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় সৈনিকলীগের সহ-সভাপতি সরদার মজিব বলেন, আওয়ামী নেতাকর্মীদের সুসংহত করার লক্ষ্যে দলীয় হাইকমান্ডের অনুমতিসাপেক্ষে তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। তাই তার পরাজয়কে তিনি হাসিমুখে গ্রহণ করেন।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০০৪ সালে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে আজও সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০০০ সালে উপ-নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তালা-কলারোয়া আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছেন। তবে ২০১৪ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এমনকি মনোনয়ন জমা, প্রতীক বরাদ্দের চিঠিও পান। কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করায় এবং জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় জোটের স্বার্থে ওয়ার্কার্স পার্টির দাবিতে নেত্রী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে মনোনয়ন দেন। এরপর তিনি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করলে শেখ হাসিনা তাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত বলেন, তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন তালা-কলারোয়ায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি দলের চেয়ারম্যান হুসেই মুহাম্মদ এরশাদের অনুমতি নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমান বলেন, ‘এ আসনে আমাদের একমাত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। তবে বর্তমান সরকার হাবিবুল ইসলামসহ আমাদের নেতাকর্মীদের একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করে এলাকাছাড়া করেছে। তারপরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে এ আসনটি বিএনপির দখলে থাকবে।’