‘জিন সাপ’ আতঙ্ক, কবিরাজের তুকতাক

আপডেট: 07:50:06 15/07/2018



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : হরিণাকুণ্ডুতে কথিত জিন সাপের কামড় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, গত তিনদিনে প্রায় ৭০ জনকে ‘জিন সাপে’ কামড়েছে। নানা ধরনের তুকতাকের মাধ্যমে ‘জিন সাপের’ কামড় থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী কবিরাজের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ‘জিন সাপ’ বলে কিছুই নেই। গোটা ব্যাপারটিই মনস্তাত্ত্বিক।
সরেজমিনে দেখা যায়, কথিত জিন সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে কবিরাজের পরামর্শে খাসি জবাই করে মিসকিনদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জবাই করা ছাগলের হাড় ও রক্ত পুতে দেওয়া হয়েছে এলাকার মাঝখানে।
যে এলাকাটিতে এই গুজব রটেছে, সেখানে স্বয়ং পৌরসভার মেয়র শাহিনুর রহমান রিন্টুর বসবাস। তিনি বলছেন, গত তিন দিনে গ্রামের প্রায় ৭০ জন নারী ও পুরুষকে ‘জিন সাপে কামড়েছে বলে লোকজন বলছে।
কথিত জিন সাপের কামড়ে অসুস্থ বলে দাবিদার স্থানীয় গ্রামপুলিশ আত্তাব হোসেনের ছেলে লিটন বলছেন, গত ১১ জুলাই সন্ধ্যায় হঠাৎ তার হাতে কামড়ের দাগ দেখা যায়। এ সময় হাতে প্রচণ্ড জ্বালা-যন্ত্রণা ছাড়াও মাথা ঘোরা শুরু হয়। কবিরাজের কাছে গেলে কবিরাজ ঝাড়-ফুঁক করে ‘জিন সাপে’ কামড়েছে বলে জানায়।
কথিত জিন সাপের কামড়ের শিকার ওই এলাকার স্বপন, লিয়ন, রান্নু, টনি, মিরাজ, মোমিন, উকিল, ইউসুফ, উসমান, স্বপ্না খাতুন, জুলেখা খাতুনসহ অনেকেরই একই বক্তব্য।
‘জিন সাপের’ কামড়ে রোগীদের চিকিৎসাকারী পাশের বিরামপুর গ্রামের কবিরাজ মহত আলীর দাবি, ওই গ্রামে একটি প্রাচীন নিমগাছ ছিল। যেটির পরিচর্যা করতেন স্থানীয় শতবর্ষী ব্যক্তি হাতেম আলী। সেখানে ঈদের পর এক ব্যক্তি একটি মহিষ জবাই করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জিন সাপরূপে গ্রামবাসীর ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। খাসি জবাই করে মিসকিনদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে জবাই করা খাসির হাড় ও রক্ত গ্রামের মাঝখানে পুঁতে দিলে জিন সাপের কামড় থেকে রক্ষা পাবে এলাকাবাসী।
এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি খলিলুর রহমান জানান, কবিরাজের পরামর্শে শনিবার খাসি জবাই করে মিসকিনদের মাঝে খাবার বিলিয়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকে বন্ধ হয়েছে ‘জিন সাপের’ কামড়।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আশরাফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে একটি শিশু ভর্তি হয়েছিল। তার শরীরের কোথাও কামড়ানোর চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এটিকে ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বা ‘গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ’ বলা হয় জানিয়ে এই চিকিৎসক বলছেন, ‘আসলে জিন সাপ বলে কিছু নেই। মানুষের মধ্যে আতঙ্কজনিত কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’

আরও পড়ুন