রবের বাসা থেকে গ্রেফতার ব্যারিস্টার মইনুল

আপডেট: 02:13:16 23/10/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে বিশিষ্ট আইনজীবী ও পত্রিকা মালিক ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
রংপুরে দায়ের করা মানহানির একটি মামলায় সোমবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টার কিছু সময় পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্মকমিশনার মাহবুব আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন রংপুরের একটি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে সেই পরোয়ানায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়েছে।
আ স ম আবদুর রবের ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, সোমবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিক থেকে উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের তিন নম্বর সেক্টরের চার নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাসাটি ঘিরে রাখে পুলিশ। বাসাটির ভেতরে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আছেন- এমন খবর নিশ্চিত হয়েই পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘একটু ব্যস্ত আছি। পরে কথা হবে।’
গত ১৬ অক্টোবর একটি টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে অশালীন, আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নারী সাংবাদিক ও সম্পাদকরা বিবৃতি দিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ক্ষমা চাইতে বলেন। বিবৃতিদাতা সাংবাদিকদের মধ্যে বেশিরভাগই সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত।  ব্যারিস্টার মইনুল এরপর দুঃখ প্রকাশ করে লিখিত ক্ষমা চাইলেও তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তারা। রোববার তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন মাসুদা ভাট্টি। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মামলা হয় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে মাসুদা ভাট্টি ও জামালপুরের মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন। কুড়িগ্রামে দায়ের করা মামলায় আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেন।
এদিকে, সোমবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গটি ওঠানো হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ব্যারিস্টার মইনুলের এমন আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। এসময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি এমন একটা জঘন্য কথা বললেন একজন নারী সাংবাদিককে এবং প্রকাশ্যে, সারা বাংলাদেশ কেনো, সারা বিশ্ব দেখেছে, কীভাবে তিনি একজন নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একথা বললেন। এখন কোর্ট যেখানে তাকে জামিন দিয়েছেন, সেখানে আমার কিছু বলার নেই। সেক্ষেত্রে আমি বলবো, আমাদের নারী সাংবাদিক যারা আছেন, তারাই বা কী করছেন? একজন (ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন) নারীর বিরুদ্ধে বলেছেন, একটা মামলা না হয় হয়েছে, আরও তো মামলা হতে পারে। এর প্রতিবাদও আপনারা করতে পারেন। আপনারা প্রতিবাদ করুন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই কথার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হলো ব্যারিস্টার মইনুলকে; যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের একজন। এছাড়া তিনি ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের সম্পাদক তথা মালিক। ইত্তেফাকখ্যাত তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে তিনি। মানিক মিয়ার আরেক ছেলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য ও দৈনিক ইত্তেফাকের মালিক।
সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে একটি রাজনৈতিক জোট হয়েছে। নির্বাচনের মুখে এই জোটের আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে। এই জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।
ঐক্যফ্রন্টের আরেক উদ্যোক্তা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও একের পর এক মামলা হচ্ছে। সবশেষ তার বিরুদ্ধে চুরির মামলাও হয়েছে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন