‘আরো জমি লাগলে জানান, টাকার সমস্যা নেই’

আপডেট: 07:58:54 17/08/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে  মাত্র ২৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ১১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে রিজার্ভ ছিল মাত্র সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। মংলা বন্দরের লোকসান ছিল ১১ কোটি টাকা। আজ সেখানে ৭৫ কোটি টাকা লাভে দাঁড়িয়েছে। বেনাপোল বন্দরকে আরো উন্নত করতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে ১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেনজার টারমিনাল সম্মেলনকক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দরের গতিশীলতা আনয়নের নিমিত্তে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির নবম সভায় কমিটির সভাপতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।  আওয়ামী লীগ সরকার ১২টি গেজেটভুক্ত বন্দর থেকে ২৩ বন্দরকে গেজেটভুক্ত করেছে। ইতিমধ্যে নৌপথে আমদানি বাড়াতে দেড় হাজার কিলোমিটার নদী খনন বা ড্রেজিং করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশকে আরো গতিশীল করে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে নিয়ে যাবে সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যত রকম সহযোগিতার প্রয়োজন তা করা হবে বন্দর উন্নয়নের জন্য। যদি আরো জমি লাগে তা আপনারা দেখে আমাদের জানান। টাকার সমস্যা নেই। আমরা আরো জমি অধিগ্রহণ করব বেনাপোল বন্দরের জন্য। এখানে যানজট এবং পণ্যজটের জন্য দ্রুত জায়গা নিয়ে টারমিনাল ও আমদানি পণ্য রাখতে হবে। বেনাপোল বন্দরকে ইউনিফাইড বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের মধ্যে আজ ২৬ একর জমির চেক জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করা হলো।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন সচিব আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপনকুমার চক্রবর্তী, যুগ্ম-সচিব হাবিবুর রহমান,  খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন, পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. নাহিদ হোসেন, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আউয়াল, বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য জাহিদুল হক, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম, বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন শিকদার, বিজিবির টুআইসি মেজর নজরুল ইসলাম, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলককুমার মণ্ডল, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম মশিউর রহমান, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সহসভাপতি আলহাজ নুরুজ্জামান, যশোর চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক হুসাইন শওকত, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের ল্যান্ড পোর্ট সাবকমিটির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রমুখ।
বিজিবি কর্তৃক পথে পথে আমদানিপণ্য আটক করে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিজিবি যদি এরকম হয়রানি করে থাকে তাহলে তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে এর সমাধান করতে হবে। কারণ বিজিবিও একটি বাহিনী। তাদের অনেক সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি তল্লাশি করতে হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সে ক্ষেত্রে বিজিবি তল্লাশি করবে। আগ্নেয়ান্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য থাকলে সে ক্ষেত্রে বিজিবি তল্লাশি করতে পারে তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো গাড়ি আটক করা যাবে না।

আরও পড়ুন