যশোর-২-এ বিরোধী জোটের প্রার্থী নিয়ে জল্পনা

আপডেট: 03:21:36 18/11/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২, (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দল এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। যদি জামায়াত প্রার্থী জোটের প্রার্থী হন তাহলে তিনি কি ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন না অন্য কোনো প্রতীক থাকবে তার, সেটিও নেতাকর্মীদের আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক পেতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন চৌগাছা-ঝিকরগাছা এবং যশোর জেলা বিএনপির আট নেতা। তারা মনোনয়ন ফরম দলের প্রধান কার্যালয়ে জমাও দিয়েছেন। সোমবার তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন দলের চৌগাছা উপজেলা সভাপতি জহুরুল ইসলাম, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, যশোর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল হুদা, যশোর জেলা সহ-সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক, ঝিকরগাছা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোর্তুজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা শফিকুল ইসলাম ওরফে ভিপি শফিক এবং হুমায়ুন কবীর।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবু সাঈদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। আবু সাঈদের পক্ষে চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ এবং চৌগাছা পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর আব্দুর রহমান চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মারুফুল আলমের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
মুহাদ্দিস আবু সাঈদ ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এক লাখ ৩৭ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এক লাখ ২২ হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়ে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে সাবেক আইসিটি-মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদের কাছে পরাজিত হন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, বারবার আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ায় দলের সাংগঠনিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই এবারে বিএনপির কোনো প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
অন্যদিকে, জামায়াতের নেতারা বলছেন, তাদের প্রার্থীই এবারো জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন। তাদের দাবি, মুহাদ্দিস আবু সাঈদ একজন সজ্জন ব্যক্তি, মাদরাসার অধ্যক্ষ। পাঁচ বছর সংসদ সদস্য থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশের অভিমত, মুহাদ্দিস আবু সাঈদকে প্রার্থী করা হলে তিনি যেন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। আর জামায়াতের নেতারা বলছেন, এক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মান্য করা হবে।
এদিকে, জোটে নতুন যোগ দেওয়া মাইনরিটি জনতা পার্টির নেতা সুকৃতিকুমার মণ্ডলও এই আসনে জোটের মনোনয়নের দাবিদার।
কথা হয় চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপির প্রার্থী মনোনীত করা হোক। বিএনপিতে যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। দল তাদের মূল্যায়ন করবে এটাই আমাদের বিশ্বাস।’
ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা এলাহী টিপু বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে আমাদের নেত্রী জামায়াতের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমরা মেনে নিয়েছিলাম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতকে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। এ আসনে জামায়াতের চেয়ে বিএনপির ভোট বেশি।’
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি আমাদের কাছে মতামতও চাওয়া হয়নি।’
তিনি বলে, ‘যশোরের ছয়টি আসনেই বিএনপির যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। আমরা কেন্দ্রের কাছে দাবি করবো প্রত্যেকটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য।’

আরও পড়ুন