কথিত অপহৃত ছাত্রী স্বামীর বাড়ি থেকে থানায় হাজির

আপডেট: 08:54:19 22/11/2017



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় কথিত অপহৃত স্কুলছাত্রী ঋতু বর্ণা ওরফে রিসা খাতুন স্বামীসহ বুধবার চৌগাছা থানায় হাজির হন। পুলিশের কাছে রিসার দাবি, সে স্বেচ্ছায় চার মাস ধরে স্বামীর সংসার করছে। অপহরণের অভিযোগকারী মায়ের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ তার।
রিসা জানায়, সাত-আট মাস আগে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রে চার মাস আগেই সে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে ওঠে। সে সময় তার বাবা বনি ইয়ামিন সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদলের কাছে বিচার দেন। চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহীম খলিল বাদল ওই ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল হাই, কামরুজ্জামান ভদুসহ উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সম্মতিতে রিসার সঙ্গে নাজিমের সামাজিকভাবে বিয়ে দিয়ে দেন। সেই থেকে তারা ঘর সংসার করছে।
থানায় রিসা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলে, ‘মা আমার বিয়ের তিন বছর আগে বাবাকে ছেড়ে বগুড়া জেলার এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে সংসার করছে। আমার বাবাও আরেকটি বিয়ে করে সংসার করতে থাকে।’
‌‘'সংসারে মা-বাবার টানাপড়েনে অসহায় অবস্থায় নাজিমের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হই। নাজিম আমাকে বিয়ে না করলে সেসময় আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিল না। সেখানে শ্বশুর-শাশুড়ির আদর যত্নে স্বামীর সাথে আমার সুখের সংসার চলতে থাকে। গত শনিবার মা বগুড়া থেকে এসে প্রথমে আমার শ্বশুরবাড়িতে যায়। দুপুরে আমাদের সাথে খাবার খেয়ে আমাদের তার বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। আমরা যেতে রাজি না হলে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান বাদলকে জানায়। চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কালিতলায় শতাধিক মানুষের সামনে আমার মাকে বলে, ‘মেয়ে-জামাই নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, ভালো কথা। কোনো ঝামেলা করবেন না তো?' তখন মা সবার সামনে বলে, ‘এ নিয়ে আর কোনো ঝামেলা হবে না। তখন সরল মনে মায়ের সাথে আমরা জগন্নাথপুর গ্রামে আমার নানিবাড়িতে গিয়ে উঠি'’ বলছিল রিসা।
সে আরো জানায়, এরপর রাতে মা তাকে বলে নাজিমকে ছেড়ে তার সঙ্গে বগুড়া চলে যেতে। মায়ের সাথে চালাকি করে রোববার ভোরে সে স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। এরপর ওই দিন দুপুরে তার মা থানায় তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে লিখিত অভিযোগ দেন।
রিসা আরো বলে, ‘পুলিশ আমাদের ডাকায় আমরা থানায় এসেছি। মা আমাদের সংসার ভাঙতে চাচ্ছে। আমি অপহৃত হইনি। সামাজিকভাবেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। গ্রামের লোকজনের কাছে শোনেন। তারাও এই সত্যটাই বলবে।’
মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রিসা বলে, ‘সে সংসার ভেঙে আমাদের এতিম করেছে। এখন আবার আমার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমি প্রশাসনের কাছে মিনতি জানাচ্ছি, আমার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে যেন হয়রানি না করা হয়।’
রিসার দাবিকেই সমর্থন জানিয়েছেন সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিসা যখন নাজিমের বাড়িতে গিয়ে ওঠে তখন দুই গ্রামের গণ্যমান্য লোকজন ও উভয় পরিবারের সম্মতিতেই তাদের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। রিসার মা তো তিন বছর আগেই বগুড়ায় আরেকজনের সাথে সংসার করছেন। এই তিন বছর তো তিনি মেয়ের কোনো খোঁজ নেননি। এখন হঠাৎ তিনি এলাকায় এসে মেয়ের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছেন। ওসি সাহেবকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
জানতে চাইলে চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন আমি অফিসিয়াল কাজে বাইরে ছিলাম। উভয়পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’



আরও পড়ুন