ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে কর্মীরা আঙুল চুষবে না : মঞ্জু

আপডেট: 07:29:04 23/04/2018



img

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নির্বাচনে কোনো রকম ভোট ডাকাতির চেষ্টা করা হলে নেতা-কর্মীরা ঘরে বসে আঙুল চুষবে না। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনে তারা রক্ত এবং জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
কেসিসি নির্বাচনে দক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের অবৈধ প্রভাব, দাপট এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও হুমকির' প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ২০ দলীয় জোট মনোনীত কেসিসির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন।
সোমবার দুপুরে বিএনপি কার্যালয়ে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভোটের পরিবেশ নিয়ে শংকা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ পরিবারের সদস্যরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা গভীর রাতে উর্ধ্বতন পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। রাতের বৈঠকের নির্দেশনার পরই পুলিশের ভূমিকা পাল্টে গেছে। ১৫, ২৪, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। হয়রানি করেছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররাও অনেকের বাড়িতে গিয়ে হামলা, ভাংচুর ও হুমকি প্রদর্শন করছে।
তিনি শেখ পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, সিটি করপোরেশনের মতো ছোট খাটো নির্বাচন নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবুন। আর কোনো প্রার্থীর পক্ষে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু না হয়; এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়, এটিই হবে সরকারের গলার কাঁটা। দেশের একটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ এবং সারাবিশ্ব। চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতও বলেছে একটি অংশ গ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। তাই এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়; তাহলে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। কারণ সরকার যে ভোট ডাকাত, আওয়ামী লীগ যে আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করবে সেটি প্রমাণিত হবে।’
‘একই সাথে নির্বাচন কমিশনের কোমর যে শক্ত; যেটি এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হবে। এখানে যদি ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে বিএনপি কর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না। বিএনপি কর্মীরা প্রস্তুতি নিয়েছে ভোট ডাকাতি প্রতিরোধের। ভোটারদের সাথে নিয়ে সেই ডাকাতদের প্রতিরোধ করা হবে। আমরা কোনোভাবেই ভোট ডাকাতি করার সুযোগ দেবো না; এমনভাবেই বিএনপি তৈরি হচ্ছে।’
মেয়র প্রার্থী মঞ্জু বলেন, ‘পুলিশকে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের তালিকা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেটি না করে উল্টো বিএনপি নেতা-কর্মীদের তালিকা করে তাদের হয়রানি করছে।’
তিনি পুলিশকে কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণে ব্যবহার না হওয়ার অনুরোধ করেন।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পরই বিএনপির পক্ষ থেকে নয় দফা সুপারিশ করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ থানার ওসিসহ দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি দফাও বাস্তবায়ন করেনি। যে কারণে এ নির্বাচন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ব্যর্থ হলে ভোট ডাকাতি হলে জনগণ মেনে নেবে না। ভোটারদের নিয়েই তা প্রতিরোধ করা হবে।’
নজরুল ইসলাম মঞ্জু সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সেনা মোতায়েনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, দলীয় পুলিশ প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। নির্বাচনের আগেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদেরও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, আব্দুল জলিল খান কালাম, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, এস এ রহমান, মো. ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এহতেশামুল হক শাওন ও শামসুজ্জামান চঞ্চল প্রমুখ।
খুলনাবাসীকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান অন্য নেতারা।

আরও পড়ুন