বহু বিবাহের শাস্তি কী

আপডেট: 02:22:42 22/01/2018



img

শুভ্র সিনহা রায় : হাবিব ও কান্তার বিয়ে হয়েছে সাত বছর। তাদের একটি কন্যা সন্তানও আছে। হাবিব কাঠমিস্ত্রি হিসেবে বাড়ি থেকে দূরে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে।
এক মাস ধরে হাবিব দূরে কোথাও কাজ করছিলেন এবং কয়েকদিন আগে হঠাৎ আবার একটি বিয়ে করে নতুন স্ত্রীকে বাড়িতে এনেছেন। কান্তা এর প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, ‘সতীনের সাথে থাকতে না পারলে বাড়ি ছেড়ে চলে যা।’ এ অবস্থায় পারুল পাশের বাড়ির কলেজপড়ুয়া এক মেয়েকে নিয়ে আইনজীবীর কাছে যান। আইনজীবীর সঙ্গে কান্তার কথোপকথন পাঠকদের উদ্দেশে হুবহু তুলে ধরা হলো-
কান্তা : আমার স্বামী যে আরেকটি বিয়ে করল, এটা কি উচিত হয়েছে?
আইনজীবী : না, উচিত হয়নি। একজন স্ত্রী থাকতে আরেকটি বিয়ে বা একাধিক স্ত্রী থাকতে আবার বিয়ে করাকে বহু বিবাহ বলে। মুসলিম আইনে বহুবিবাহকে অনুমোদন করা হলেও এর শর্তাবলী বহু বিবাহকে নিরুৎসাহিতই করেছে। খ্রিস্টান ধর্মে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ। হিন্দু ধর্মে বহু বিবাহের প্রচলন নেই।
কান্তা : আমার অনুমতি না নিয়ে আমার স্বামী যে আরেকটি বিয়ে করলেন এ ব্যাপারে কোনো আইন নেই ?
আইনজীবী : হ্যাঁ আছে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ-এর ৬ ধারায় বহু বিবাহের জন্য বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
কান্তা : প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বহু বিবাহ করলে আইনের বিচারে শাস্তি হবে কি না?
আইনজীবী : অবশ্যই শাস্তি হবে। এ বিষয়ে আইনে শাস্তির বিধান আছে।
তা ছাড়া কেউ যদি শালিসী পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তাহলে ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা যাবে না।
শালিসী পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে।
স্ত্রী ও শালিসী পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। অনুমতিবিহীন দ্বিতীয় বা পুনরায় বিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিন্তু বিয়ে অবৈধ নয়।
দ্বিতীয় বিয়ের কারণে প্রথম স্ত্রী আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে বিয়ে বিচ্ছেদ চাইতে পারেন।
কান্তা : বর্তমান স্ত্রী অনুমতি দিলেই কি একজন জনপ্রতিনিধি স্বামীকে বহু বিবাহের অনুমতি দিয়ে দেবেন?
আইনজীবী : ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ছয় ধারাটি বহু বিবাহের প্রথার ওপর এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আর এ কারণেই শালিসী পরিষদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বহু বিবাহের অনুমতির জন্য চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হলে তিনি শালিসী পরিষদ গঠন করবেন। বহু বিবাহের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা বিবেচনা করার জন্য শালিসী পরিষদ যথেষ্টভাবে সুচিন্তিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। তাই বর্তমান স্ত্রী অনুমতি দিলেও শালিসী পরিষদ বহু বিবাহের অনুমতি দিতে বাধ্য নয়।
কান্তা : বহুবিবাহের শাস্তি কী?
আইনজীবী : অনুমতি ছাড়া বহুবিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ক্ষেত্রে শাস্তি হলো এক বছরের বর্ধনযোগ্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড।
[লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। এনটিভি থেকে।]