চোখ হারানো ২০ জন এক কোটি টাকা পেলেন

আপডেট: 03:43:29 13/11/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষুশিবিরে গিয়ে চোখ হারানো ২০ জনকে ক্ষতিপূরণের মোট এক কোটি টাকার চেক দিলো ইমপ্যাক্ট কর্র্তৃপক্ষ।
উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম ২০ জনের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন।
চেক পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা গ্রামের লাল মোহাম্মদ, রংপুর গ্রামের এখলাস আলী, সোনাপট্টির অবনী দত্ত, এনায়েতপুর গ্রামের মীর ইয়াকুব আলী, কুটিপাইকপাড়ার যমুনা বালা ওরফে ঊষারানি, স্টেশনপাড়ার কুটিলা খাতুন, মোড়ভাঙ্গা গ্রামের আহম্মেদ আলী, খাসবাগুন্দা গ্রামের খবিরন নেছা, নতিডাঙ্গা গ্রামের ফাতেমা খাতুন ও হারদী গ্রামের হাওয়াতন নেছা, সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের ওলি মুহাম্মদ ও গাইদঘাট গ্রামের গোলজার হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলার সদাবরী গ্রামের হানিফা খাতুন, ল²ীপুর গ্রামের তায়েপ আলী, মদনা গ্রামের মধু হালদার, বড়বলদিয়া গ্রামের আয়েশা খাতুন, কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের গোলজান খাতুন, মজলিসপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, চিৎলা গ্রামের নবিছদ্দিন ওরফে নবী এবং জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামের আজিজুল হক।
সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম জানান, উচ্চ আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিটকারীর পক্ষে শুনানি শেষে গত ২১ অক্টোবর আদালত আদেশ দেন, আগামী এক মাসের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আইরিশ কোম্পানিকে পাঁচ লাখ করে মোট দশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ১৭ জনকে দিতে হবে। এছাড়া চোখ হারানো ১৭ জন ও অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণের শিকার আরো তিনজন রোগীসহ মোট ২০ জনকে আজীবন বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা দিতে হবে। চুয়াডাঙ্গা ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, এই ২০ জনের চোখের চিকিৎসা ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের বাইরে যদি অন্য কোনো হাসপাতালে হয় তাহলে কর্তৃপক্ষকে ওই ব্যয়ও বহন করতে হবে। ক্ষতিপূরণের টাকা চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পরিশোধ করে সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে।
ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ডা. সাইফুল ইমাম বলেন, ‘একই অস্ত্রোপচারে যে তিনজনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে তাদেরকেও আমরা ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা করে ১৫ লাখ টাকা দিচ্ছি।’
গত ৪ মার্চ ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষুশিবিরে ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি (ফ্যাকো) কাটা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহিন। অস্ত্রোপচারের পর দিন রোগীদের চোখে সংক্রমণ দেখা দেয়। চোখ জ্বালাপোড়া করায় তারা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনে আসেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টিতে প্রথমে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। পরে ওই রোগীদের একজনকে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই বিশেষজ্ঞ রোগীদের দ্রæত ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে তিন রোগী নিজ উদ্যোগে তাদের স্বজনদের নিয়ে ঢাকায় যান। পরে ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন থেকে ১২ মার্চ একসঙ্গে ১৬ রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় ১৯ রোগীর একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়। আরেক নারীর বাম চোখ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালো হয়। তবে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারেও তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি।
এই সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে আসার পর আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশের মাধ্যমে আদালত রিট আবেদন নিষ্পত্তি করেন।

আরও পড়ুন