২০০ টাকা নিয়ে মাগুরায় আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ

আপডেট: 08:26:52 20/04/2018



img

মাগুরা প্রতিনিধি : ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার বকেয়া টাকা আদায় নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের দাশনা গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই দল সমর্থকের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুইজন গুরুতরসহ পাঁচজন আহত, সাতটি বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।
মঘি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাই সর্দারের সমর্থকদের সঙ্গে একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিল্টন মাহমুদের সমর্থকদের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে গ্রামবাসী জানান।
দাশনা গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী ইসহাক মণ্ডল জানান, এ গ্রামের মোহন শিকদারের বিদ্যুৎচালিত সেচ ভাড়া চুক্তিতে নিজের ধানি জমিতে ব্যবহার করেন একই গ্রামের মহিন মোল্যা। ভাড়ার বকেয়া ২০০ টাকা আদায় নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয়ের মধ্যে প্রথমে বাদানুবাদ, পরে হামলা-পাল্টা হামলা হয়। এতে মোহন শিকাদার ও উজ্জ্বল নামে দুইজন গুরুতর জখম হন। এছাড়া আরো তিনজন কমবেশ আহত হন। আহতদের মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার জের ধরে আজ শুক্রবার দুপুরে মহিন মোল্যার লোকজন প্রতিপক্ষ মোহন শিকদারসহ আসালত শিকদার, ইসহাম মণ্ডল, কওছার আহমেদ, ফুল মিয়া, আব্দুল মিয়া ও খায়রুল ইসলামের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে।
মঘি সদরের আবুল হোসেন, বক্কার শেখসহ আরো কয়েক ব্যক্তি জানান, দুই দলের একপক্ষের দলনেতা মহিন মোল্যা মঘি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই সর্দারের সমর্থক। অন্যদিকে, মোহন শিকদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অপর নেতা পিল্টন মাহমুদের সমর্থক। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের বিরোধ চলে আসছে। এলাকায় তাদের পৃথক সামাজিক অবস্থান রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা পর্যন্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে মঘি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিল্টন মাহমুদ বলেন, ‘হামলা ও ভাংচুর আব্দুল হাই চেয়ারম্যান করাচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তারা বিএনপি-জামায়াতের লোকজন নিয়ে এসব করছে।’
অন্যদিকে সামাজিক দলাদলি নিয়ে পিল্টন মাহমুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ এনে মঘি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সর্দার বলেন, ‘এটা গ্রাম্য দলাদলির বিষয়। এর সাথে রাজনীতি কিম্বা আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।’
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, মঘির সহিংসতার ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত।

আরও পড়ুন