নদী কেটে বালি তুলে তৈরি হচ্ছে রাইসমিল

আপডেট: 02:32:45 18/06/2018



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরে হরিহর নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উঠিয়ে তৈরি করা হচ্ছে একটি অটো রাইসমিল।
আব্দুস সালাম নামের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গত ১৬-১৭ দিন ধরে যশোর-চুকনগর সড়কের বিজয়রামপুর বাঁধাঘাটা এলাকায় হরিহর নদীতে দুটো মেশিন বসিয়ে বালি তুলছেন। সেখানে নদীর পাড়ে তিনি নিজের নামে একটি অটো রাইসমিল তৈরি করছেন।
প্রকাশ্যে এই কাজ চললেও তা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেই। বালি উঠানোয় ওই স্থানে হঠাৎ নদী গভির হয়ে পাড় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এর প্রভাব তীব্র হবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
এদিকে প্রকাশ্যে দুটি মেশিন বসিয়ে বালি তোলার কাজ চললেও প্রশাসন বলছে, বিষয়টিকে ‘জাতীয় স্বার্থ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিজয়রামপুর বাঁধাঘাটা এলাকায় ব্রিজের পুব পাশে অবস্থিত ‘মেসার্স সালাম রাইস মিলের’ স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম বিশাল এরিয়া নিয়ে অটো রাইসমিল তৈরি করছেন। প্রায় একমাস ধরে তিনি নদী থেকে মাটি ও বালি তুলে তার প্রকল্প এলাকা ভরাট করছেন। প্রকাশ্যে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলনের ঘটনায় প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই। প্রশাসনকে নীরব দেখে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে জানিয়েছেন। তাতেও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে দুটি মেশিন ব্যবহার করে বালি তুলতে দেখা গেছে। এসময় নদীর পাড়ে বসে থাকা আয়নাল হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়ে। তিনি বলেন, ‘১৫ দিন ধরে বালি তোলা হচ্ছে। এরআগে নদী থেকে মাটি তুলেছেন মিল মালিক।’
‘বেশ কয়েকদিন ধরে বালি তোলা হলেও কাউকে তো বাধা দিতে দেখছি না। কাজতো চলেই যাচ্ছে।’
মিল মালিক আব্দুস সালাম বালি উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘মাটি তুলিছি আমার জমি থেকে। আর ৫-৬ দিন ধরে বালি তোলা মেশিন লাগিয়েছি।’
তিনি এই ব্যাপারে লেখালিখি না করতে অনুরোধ করেন।
মিল মালিক বালি তোলার কথা স্বীকার করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান তা বলছেন না। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমি দুই দফা সেখানে গিয়েছি। প্রথম বারেই কাজ বন্ধ করে দিতে চেয়েছি। তাছাড়া নদী ভাঙন হলে মিল মালিকই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
ইউএনও বলেন, ‘ওখানে বালু তোলা হচ্ছে না। মিল মালিক আমাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছেন। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মিলের প্রয়োজনে সে ১৫ ফুট গভিরে গর্ত করে পানি জমাট রাখতে চাইছে। আমি তাকে সাত ফুট করতে বলেছি। ওখানে মিল চালু হলে তিন-চারশ লোকের কর্মসংস্থান হবে। বিষয়টিকে জাতীয় স্বার্থ হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন