শেষ হলো ভবদহ পদযাত্রা, নয়া কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট: 04:00:34 19/11/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের মাধ্যমে শেষ হলো ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির পদযাত্রা। চার দিন আগে ভবদহ এলাকা থেকে শুরু হয়েছিল পদযাত্রাটি। এতে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ অংশ নেন।
আজ দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশকালে সংগ্রাম কমিটির নেতারা জলাবদ্ধ এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরেন। তারা আগামী মাঘীপূর্ণিমার আগেই বিলকপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানান।
পরে ঘোষণা করা হয় নতুন কর্মসূচি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ২২ নভেম্বর বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং পরদিন বৃহস্পতিবার পানিসম্পদমন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি পেশ।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর আজ পেশ করা স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘কপোতাক্ষ নদ সংস্কারে ২৬১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সমাপ্তির পথে। তার সুফল হিসাবে কপোতাক্ষ অববাহিকায় এবার বন্যা হয়নি। নদী গভীর হয়েছে। এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত হয়েছে। তার ফলে কপোতাক্ষ অববাহিকায় এবার সোনার ফসল ফলেছে। পুনশ্চ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান নদী প্রবাহ ভৈরব উজানে পদ্মা-মাথাভাঙ্গার সাথে সংযোগ দিয়ে সরকার ২৭৪ কোটি টাকার আরোও একটি সংস্কার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা, আর্সেনিক সমস্যা এবং সুন্দরবন রক্ষায় সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। এখন প্রয়োজন, ভৈরব-প্রবাহের সাথে সম্পর্কিত শাখাগুলোকে সংযুক্ত ও সংস্কার করা।’
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘ভবদহ সমস্যা এখন এই জনপদের শুধু নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হবে। ফলে নদী পলি ভরাটের কারণে কপোতাক্ষ-ভৈরবের সুফল ভেস্তে যাবে। এসমস্যার একমাত্র সমাধান উজানের পানি প্রবাহ ও সমুদ্র থেকে উঠে আসা পলি-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীর নাব্য বাড়ানো। সেক্ষেত্রে সরকার যথার্থভাবেই জনগণের অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে টিআরএম পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।’
বলা হয়, ‘এবারই যদি বিলকপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়ন না হয় এবং পরবর্তী বিলে টিআরএমের প্রস্তুতি না নেওয়া হয় তা হলে ৫০-৬০ কিলোমিটার নদী ভরাট হয়ে হামকুড়ার মতো এ নদীও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হবে, দেখা দেবে মহাবিপর্যয়।’
স্মারকলিপিতে বলাহয়, ‘‘সম্প্রতি পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভবদহে এবার কোনো বন্যা হয়নি। সেখানে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলেছেন।’ মন্ত্রীর এ বক্তব্যে আমরা উদ্বিগ্ন। তার এ বক্তব্যে টিআরএম-বিরোধী চক্র উৎসাহ পেয়েছে। এলাকার ৯০ ভাগ জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বহু বাড়িঘর এখনো পানির নিচে। বরং এবার বিলে পানির গভীরতা বেশি। দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয় হলো- গত ১৬ মার্চ পানিসম্পদমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আপনার সভাকক্ষে বিল কপালিয়ায় টিআরএম প্রকল্প প্রস্তাব গৃহীত হলেও তা সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর প্রস্তাব আকারে ঢাকা অফিসে পাঠিয়েছে। প্রকল্পটি এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ডেই পড়ে আছে। তারা সরকারের কাছে প্রকল্প উত্থাপনই করেনি। এই ঘটনা প্রমাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই জনপদের বিপর্যয় সম্পর্কে কতটুকু উদাসীন এবং দায়িত্বহীন।’’
স্মারকলিপিতে বিলকপালিয়ায় দ্রুত টিআরএম শুরু করা; ভবদহ স্লুইসগেটের ২১ ও ন নম্বর ভেন্টের মাঝ দিয়ে সরাসরি নদী সংযোগ সৃষ্টি করা; হরিহর, আপারভদ্রা ও বুড়িভদ্রা জরুরিভিত্তিতে পুনঃখনন, সংস্কার কাজে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের বিচার; এলাকার সব নদী-খাল পুনরুদ্ধার, পাটা, জাল, শেওলা অপসারণ; মানবিক বিপর্যয়রোধে খাদ্য নিরাপত্তা ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা; অপরিকল্পিত ঘের উচ্ছেদ করে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটির অনুলিপি পানিসম্পদমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য উপস্থাপন করেন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, রনজিত বাওয়ালী, গাজী আব্দুল হামিদ, বৈকুণ্ঠবিহারী রায়, অনিল বিশ্বাস, আবু বক্কার সিদ্দিকী, আতাউর রহমান বাবলু, চৈতন্য পাল, মো. আব্দুল গনি, অশোক রায়, জিল্লুর রহমান ভিটু, জাকির হোসেন হবি, আব্দুল মাজেদ, আহসান উল্লাহ ময়না, সঞ্চয় মল্লিক।

আরও পড়ুন