ভোট ২৩ ডিসেম্বর

আপডেট: 02:34:46 09/11/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলা মতপার্থক্য আর বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে বলে ঘোষণা দেন।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণে সীমিত আকারে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
মি. হুদা বলেছেন, "তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসার অনুরোধ জানাই। প্রত্যেক দলের একে অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ আমি প্রত্যাশা করছি।"
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, "সংবিধান মোতাবেক ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ সালের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্য বাধকতা রয়েছে।"

এক নজরে নির্বাচনের তফসিল
•    মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ সোমবার
•    মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ : ২২ নভেম্বর, ২০১৮ বৃহস্পতিবার
•    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ : ২৯ নভেম্বর, ২০১৮ বৃহস্পতিবার
•    ভোটগ্রহণ: ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ রোববার

বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী সরকার সংসদ বহাল রেখে এই মেয়াদের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে চেয়েছে ।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক জোট, অর্থাৎ বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে মেয়াদ পূর্তির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। সেজন্য তারা তফসিল পেছানোরও দাবি করছে।
কিন্তু তাদের দাবি না মেনে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলো।
সংসদের মোট ৩০০টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করবেন প্রার্থীরা।
এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছিল দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের পুরনো ২০-দলীয় জোটের মিত্ররা।
ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের ১৫৪ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন এবং নির্বাচনটিকে দেশে-বিদেশে বিতর্কিত হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচন নিয়ে সেবার যে ধরনের সংকট ছিল সেই একই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি এখনো রয়েছে।
বিএনপি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে আসছে গত নির্বাচনের সময় থেকেই।
তবে এবার তারা নতুন গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অংশ হিসেবে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছে। জোটের নেতা ড. কামাল হোসেন এখনই তফসিল ঘোষণা না করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন।
সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবি রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নির্বাচনের তারিখ না পেছানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
সিইসি নূরুল হুদা নির্বাচন পরিচালনায় সবার সহযোগিতা, সাহায্য এবং সমর্থন কামনা করেছেন। তিনি আশা করেছেন একটি 'অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য' নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে কমিশন সফল হবে।
ইভিএমের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।
"আমরা বিশ্বাস করি ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগত মান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে।"
তিনি জানিয়েছেন, সরাসরি অথবা অনলাইনেও মনোনয়নপ্রত্র দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে।
সিইসি বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রার্থীর সমর্থক ও এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষের ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে।

আরও পড়ুন