‘এই ইট দিয়ে রাস্তা বানালে টিকবে না’

আপডেট: 06:10:06 22/10/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের টেংরামারী বাজার থেকে জালালপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, রাস্তাটি পাকাকরণে দায়িত্বে থাকা ‘বিশ^জিৎ কনস্ট্রাকশন’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরুর প্রথমে রাস্তার দুই ধারে অতি নিম্নমানের ইট ফেলেছে। গত কয়েকদিন ধরে ঠিকাদার তার লোকজন দিয়ে ইট ভেঙে খোয়া তৈরির কাজ করছেন। ইতিমধ্যে ঠিকাদার ৯৮ গাড়ি ইট ফেলেছেন ; যার অর্ধেকই নিম্নমানের।
বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত এসব ইটের খোয়া সরিয়ে ফেলে ভালো ইট দিয়ে রাস্তা পাকাকরণের কাজ না করলে গণস্বাক্ষর, মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, খুবই নিম্নমানের ইট দিয়ে খোয়া তৈরি করে রাস্তার দুই ধারে ফেলে রাখা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এর থেকে ভালো ইট দিয়ে কাজ করানো সম্ভব নয়।
উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর থেকে টেংরামারি বাজার পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তাটি এলাকাবাসীর কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তায় হাঁটু কাদা হওয়ায় চলাচলে খুবই অসুবিধা হতো। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেন।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, দুই হাজার ১০০ মিটার এই সড়কটি পাকাকরণের লক্ষ্যে কয়েকমাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এক কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দে কাজের দায়িত্ব পায় বিশ্বজিৎ কনস্ট্রাকশন। এক সপ্তাহ আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এতো নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা পাকা করা হলে তা বেশি দিন টিকবে না। ফলে তাদের দুর্ভোগ থেকেই যাবে।
স্থানীয় রঘুনাথপুরের গ্রাম্য চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, এতো খারাপ ইট দিয়ে রাস্তা করতে দেওয়া যাবে না।
মাহমুদকাটি গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে একগাড়ি ইট ভেঙে রেখেছে। খোয়াগুলো দেখে মনে হচ্ছে মাটির চাক (ঢেলা)।’
রঘুনাথপুর গ্রামের কোমল মণ্ডল বলেন, ‘আমরা বহুদিন কাদায় হেঁটে কষ্ট পেয়েছি। রাস্তা পাকা হবে শুনে আনন্দ হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখছি, যে ইট ফেলা হয়েছে, তাতে রাস্তা করলে ছয় মাসও টিকবে না। এই ইট সরিয়ে ভালো ইট না আনলে আমরা গণস্বাক্ষর দেবো। প্রয়োজনে মানববন্ধন করব।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন স্বপন দাস নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘ইট পাওয়া যাচ্ছে না। বহুদূরে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া এলাকার একটি ভাটা থেকে ইট আনতে হচ্ছে। এর থেকে ভালো ইট আশা করলে কাজ করানো যাবে না।’
আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘রাস্তার কাজে শত শত গাড়ি ইট লাগে। তাতে ঊনিশ-বিশ হতেই পারে।’
এদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের পক্ষ থেকে কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী গাউসুল আজম। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সোমবার সকালে কাজের তদারকি করতে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে অনিয়ম পেয়ে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।’
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘অনিয়ম পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। নিম্নমানের ইট অপসারণ না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।’

আরও পড়ুন