দশ সেকেন্ডের টর্নেডোয় লণ্ডভণ্ড শার্শার দুই গ্রাম

আপডেট: 03:09:45 22/10/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শায় দশ সেকেন্ড স্থায়ী আকস্মিক টর্নেডোয় উপজেলার শ্যামলাগাছীর পোতাপাড়া ও স্বরুপদহ গ্রামে ঘরবাড়ি ও গাছপালা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। টর্নেডোর আঘাতে বেশ কিছু কাঁচা-পাকা বাড়ি ও টিনের ঘরসহ কয়েকশ’ ভেঙে পড়েছে।
এদিকে, দুই দিনের অবিরাম বর্ষণে বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা এলাকায় না যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
শার্শার পোতাপাড়া গ্রামের কৃষক আজিবর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে আকস্মিক টর্নেডোয় তার ১৫ বিঘা জমির উফশী জাতের ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মাত্র দশ সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ছিল টর্নেডো। এই কৃষক এখন কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। কৃষি বিভাগের কেউ তার গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আসেননি জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একই গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ ঘটনার সময় স্ত্রী-সন্তানসহ ঘরের মধ্যে ছিলাম। ওই সময় ঘরের উপর গাছ পড়ে। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। অল্পের জন্য পরিবারসহ বেঁচে গেছি। এখন অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি।’
ওই গ্রামের ব্যাংকার আব্দুল গনি জানান, টর্নেডোর ঝাপটায় তার ছোট বড় ৫০টি মেহগনি ও রেইনট্রি ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক এলাকা পরিচালক ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের দশটি, রফিকুলের পাঁচটি, মহব্বত, গফ্ফার, তোতাসহ শতাধিক ব্যক্তির গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে টর্নেডোর আঘাতে। গ্রামবাসী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্র ও শনিবার দিনভর অঝোরে বৃষ্টি হয়েছে শার্শা অঞ্চলে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।
শার্শা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় হাইব্রিড ও উফশী জাতের ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে যে সমস্ত ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, ওই সমস্ত ধানের ক্ষতি কম হবে। কিন্তু যে সমস্ত ধান গাছে কেবল থোড় এসেছে সেগুলোর ক্ষতির আশঙ্কা বেশি।
আগামী ২-১ দিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারি বৃষ্টিতে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে সরকারি কোনো কর্মকর্তা এলাকায় যাননি বলে নিশ্চিত করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

আরও পড়ুন