আট পৌরসভায় নয় কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

আপডেট: 08:16:10 23/02/2018



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : দক্ষিণ-পশ্চিমের চার জেলার আট পৌরসভার কাছে ওয়েস্ট জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) পাওনা প্রায় নয় কোটি টাকা। গত ১১ বছরে এ বিপুল টাকা বকেয়া ফেলেছে পৌরসভাগুলো।
ওজোপাডিকো কর্মকর্তাদের দাবি, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আট পৌরসভার কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে বহুবার ধরনা দেওয়া হয়েছে। বিল আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, কোম্পানির আওতাধীন আট পৌরসভার কাছে প্রায় নয় কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। শুধু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও কুমারখালী পৌরসভার কাছেই বকেয়া রয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। এর মধ্যে ভেড়ামারা পৌরসভার কাছে এক কোটি ৩৫ লাখ এবং কুমারখালী পৌরসভার কাছে প্রায় এক কোটি ২৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।
তিনি জানান, ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৭১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। শৈলকুপা পৌরসভার কাছে ১৫ লাখ ৫৯ হাজার, কালীগঞ্জ পৌরসভার কাছে এক কোটি ৩৫ লাখ ১৬ হাজার, কোটচাঁদপুর পৌরসভার কাছে দুই কোটি এক লাখ ৬৬ হাজার এবং মহেশপুর পৌরসভার কাছে এক কোটি তিন লাখ ৮৬ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।
মেহেরপুর পৌরসভার কাছে ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার কাছে প্রায় ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে এ আট পৌরসভার কাছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পাওনা দাঁড়িয়েছে আট কোটি ৮২ লাখ ৭৫ হাজার ৩০২ টাকা।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ভেড়ামারার কাছ থেকে পাওনা অদায়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কজে আসেনি। এ বিল আদায়ের জন্য সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিভাগ শরণাপন্ন হয়েছে আদালতের। বিল পরিশোধের জন্য এরই মধ্যে দুই পৌরসভাকে দেওয়া হয়েছে আইনি নোটিস।
এদিকে, আর্সেনিকপ্রবণ জেলা কুষ্টিয়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য আটটি পাম্প স্থাপন করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় সেগুলো চালু করা যায়নি। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ দিচ্ছে না।
কুমারখালী পৌরসভার মেয়র শামসুজ্জামান অরুণ বলেন, ‘আমাদের কিস্তি করে দিলে এখন থেকে বিল পরিশোধ কার্যক্রম শুরু করতে পারি।’
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ মকছেল আলী বিশ্বাস জানান, দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই বকেয়া বিলের বোঝা তাদের ওপর চেপেছে।

আরও পড়ুন