বড় ভাইয়ের শাবলের আঘাতে মণিরামপুরে খুন

আপডেট: 03:21:42 19/04/2018



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যশোরের মণিরামপুরে বড় ভাইয়ের শাবলের আঘাতে জগবন্ধু দাস (৫৬) নামের এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের পাটুনিপাড়ায় এঘটনা ঘটে। স্বজনরা উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জগবন্ধু ওই এলাকার অন্নচরণ দাসের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।
এদিকে ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। তারা হলেন, নিহতের বড়ভাই শ্যামপদ দাস (৬০), তার স্ত্রী মায়ারানি দাস (৫০) ও মেয়ে পার্বতীরানি দাস (১৭)।
দুপুরে এই খবর লেখা পর্যন্ত নিহতের লাশ হাসপাতালের বারান্দায় রাখা ছিল।
নিহত জগবন্ধুর স্ত্রী জোসনা বলেন, ‘বাড়িতে একটি মন্দির তৈরির কাজ চলছিল। শ্যামপদ পথ না রেখেই মন্দির নির্মাণ করাচ্ছিল। সকালে আমার স্বামী কাজ করতে নিষেধ করলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শ্যামপদ শাবল ও ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এসময় সে (জগবন্ধু) পড়ে গেলে তার বুকের ওপর উঠে ইচ্ছামতো পাড়ায় শ্যামপদ। বাবাকে মারতে দেখে মেয়ে শম্পা এগিয়ে গেলে তাকেও পেটায় শ্যামপদের স্ত্রী মায়া ও মেয়ে পার্বতী। স্বামী ও মেয়েকে বাঁচাতে আসলে আমাকেও পিটিয়ে আহত করে ওরা।’
মণিরামপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজিবকুমার পাল বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই জগবন্ধুর মৃত্যু হয়েছে।’
উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ইফতেখার রসুল বলেন, ‘বেলা সোয়া নয়টার দিকে শ্যামপদ, তার স্ত্রী মায়া ও মেয়ে পাবর্তী জরুরি বিভাগে এসে ফ্লোরে পড়ে গড়াগড়ি খেতে থাকে। তাদের ভর্তি করার পরপরই জগবন্ধুকে নিয়ে তার স্ত্রী জোসনা ও মেয়ে শম্পা হাসপাতালে আসেন।’
শ্যামপদ, তার স্ত্রী মায়া ও মেয়ে পার্বতীর দেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও জোসনা ও তার মেয়ে শম্পার দেহে মারধরের কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে বলে জানান ইফতেখার রসুল।
নিহতের স্বজনরা বলছেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তড়িঘড়ি হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন শ্যামপদ ও তার স্ত্রী-মেয়ে।
এদিকে মারামারির ঘটনায় একজন নিহতের খবর পেয়ে থানা পুলিশ হাসপাতালে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় শ্যামপদ আটক হন। পরে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ড থেকে গ্রেফতার করা হয় শ্যামপদর স্ত্রী মায়া ও মেয়ে পার্বতীকে।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘শ্যামপদকে আটক করা হয়েছে। তার স্ত্রী মায়া ও মেয়ে পার্বতী পুলিশ পাহারায় হাসপাতালের বেডে রয়েছে।’

আরও পড়ুন