যে গ্রামে কথা হয় সুরে গানে

আপডেট: 02:22:27 20/09/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : পাহাড়ের গায়ে গাছগাছালি ঘেরা গ্রাম। মাঝে মাঝেই শোনা যায় বিচিত্র শিস, কখনো কিচিরমিচির শব্দ। কী ভাবছেন? পাহাড়ি গ্রামে পাখির শিস বা কিচিরমিচির নিয়ে এত কথা কেনো? এই তো ভুল করলেন। শিসের শব্দ বা কিচিরমিচির পাখির নয়, মানুষের! আর এটিই নাকি তাদের ভাষা।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের গল্প এটি। গ্রামটির নাম কংথং। এই গ্রামের মানুষের বিশেষ ঐতিহ্য হলো, গান বা সুললিত সুরে একে-অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা। কংথং-এর আশপাশের আরো কিছু গ্রামেও এই ঐতিহ্য চালু আছে। শুধু তাই নয়, এই গ্রামের মায়েরা প্রতি সন্তানের জন্য আলাদা আলাদা সুর তৈরি করেন।
কংথং গ্রামের অধিবাসীদের সবাই খাসি সম্প্রদায়ের। তাদের প্রত্যেকের নামের জায়গায় আছে ব্যক্তিগত সুর! ছোট দৈর্ঘ্যের এই সুর দিয়েই একজনের পরিচয় আরেকজন থেকে আলাদা। সারা জীবন জুড়েই এই সুর তাদের সঙ্গী, এতেই তাদের পরিচয়। অবশ্য বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে অক্ষরভিত্তিক নামও আছে তাদের। তবে নিজেদের মধ্যে খুব কমই ব্যবহার হয় তা।
তিন সন্তানের মা পিনডাপলিন। এটি তার পোশাকি নাম। দুপুর বা রাতের খাবার খেতে সন্তানদের ডাকতে হলে, সুরের আশ্রয় নেন তিনি। আবার সুরে সুরেই এর জবাব দেয় সন্তানেরা। এভাবেই চলে কথোপকথন।
৩১ বছর বয়সী পিনডাপলিন বলেন, ‘এই সুর তৈরি হয় হৃদয় থেকে। সুরের মধ্য দিয়ে সন্তানের জন্য আমার ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশিত হয়।’
তবে বাচ্চারা যদি রাগ ওঠার মতো কোনো ভুল কাজ করে, তখন তাদের পোশাকি নামে ডাকা হয় বলে জানালেন গ্রামটির আরেক বাসিন্দা। অর্থাৎ শুধু ভালোবাসা বোঝাতেই এই সুরেলা নাম।
কংথং অবশ্য আধুনিক বিশ্ব থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে সেখানে এসেছিল বিদ্যুৎ। রাস্তা তৈরি হয়েছে মোটে পাঁচ বছর আগে। গভীর জঙ্গল থেকেই গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা হয় এই গ্রামের অধিবাসীদের। জঙ্গলে কাজ করার সময় একে-অপরের সঙ্গে সুরে সুরে কথা বলেন সবাই।
তবে বিদ্যুৎ, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোনের প্রভাবে এখন গ্রামটির সুর ও গানে পরিবর্তন আসছে। সুপ্রাচীন ঐতিহ্যে অনুপ্রবেশ ঘটছে বলিউডি সংগীতের। বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশুর সুরেলা নাম নাকি তৈরি হচ্ছে বলিউডি ঢঙে! শাহরুখ-সালমানের দৌরাত্ম্যে আর কত দিন এই ঐতিহ্য টিকে থাকে, সেটিই এখন দেখার।
সূত্র : এএফপি, প্রথম আলো

আরও পড়ুন