এক মায়ের কান্না

আপডেট: 06:09:05 15/07/2018



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ‘আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি, ভেবে কষ্ট হয় মেয়েদের কতই না কষ্ট করে মানুষ করেছি। স্বামী মারা যাবার পর আমি জুটমিলে, তুলার মিলে, লুব্রিকেন্ট কারখানায় কাজ করে তাদের লেখাপড়া করিয়েছি। খেয়ে না খেয়ে জীবন চালিয়েছি। জমি বেচে লাখ লাখ টাকা মেয়েদের দিয়েছি। ভেবেছি ওরা ভালো থাক, সবই তো ওদের। পোস্ট অফিসে যে সাত লাখ টাকা রেখেছি তার নমিনিও দুই মেয়ে।’
‘আজ সেই মেয়েরা আমার নামে গহনা চুরির অভিযোগ করেছে। কোর্টে মামলা দিয়েছে। আমাকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটাতেও দ্বিধা করেনি। আমার পেটের সন্তানরা আমাকে যেভাবে লাঞ্ছিত করল তাতে আমার বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালো।’
ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে রোববার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলছিলেন মিরারানি নামের এক নারী।
তার দেওয়া তথ্যমতে, ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি এলাকার মৃত প্রদীপ বিশ্বাসের স্ত্রী মিরারানি বিশ্বাস। ২০১৫ সালে তার স্বামী মারা যান। অনেক কষ্টে তার দুই মেয়েকে মানুষ করেছেন। ছোট মেয়েকে অনেক টাকা খরচ করে বিয়ে দিয়েছেন। স্বামীর ওয়ারেশ সূত্রে পাওয়া ২৫ শতক জমির বেশিরভাগই বিক্রি করে মেয়েদের দিয়েছেন। এখন মাত্র সাড়ে আট শতক জমি আছে তার। সম্প্রতি ছয় শতক জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা পোস্ট অফিসে রেখেছেন তিনি। তার নমিনিও করেছেন তার দুই মেয়েকে। এখন দুই মেয়ে পূজা বিশ্বাস ও জবা বিশ্বাস, মেয়েজামাই বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, সুদেব বিশ্বাস, ভাসুর রমেন বিশ্বাস, দীলিপ বিশ্বাস, দেবর স্বপন বিশ্বাস, ভাসুরের ছেলে বিধান বিশ্বাস, রাজন বিশ্বাস মিলে তার জমি ও টাকা আত্মসাৎ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এমনকি মেয়েরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আদালতে মিথ্যা চুরি মামলা দিয়েছেন।
দুই মেয়ে ও ভাসুর-দেবরদের হাত থেকে রক্ষা ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মিরা।
সংবাদ সম্মেলনে মিরার বোন ঝরনা সরকার, ভাগনে অমিত সরকার ও অরূপ সরকার উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

আরও পড়ুন