১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণে শরিকদের আপত্তি

আপডেট: 09:49:43 17/07/2018



img

পাভেল হায়দার চৌধুরী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাবে শরিক দলগুলো আপত্তি তুলেছে।
শরিক দলগুলোর নেতাদের মতে, ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণের প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি একটি আদর্শিক জোট। ভোটের স্বার্থে জোটের পরিধি বাড়ালে আদর্শিক ‘স্পিরিট’ নষ্ট হবে। তবে ভোটকেন্দ্রিক সাময়িক বোঝাপড়ায় কোনো দলের সঙ্গে গেলে সেজন্য নির্বাচনি জোট মহাজোটই যথেষ্ট বলে মনে করছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সভায় জোট সম্প্রসারণের প্রস্তাব উঠলে এতে আপত্তি তোলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, বাসদ একাংশের নেতা রেজাউর রহমানসহ কয়েকজন শরিক নেতা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, বুধবার দুপুর ১২টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী এমন কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা জানান ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ওই বৈঠকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপিসহ আরো দল থাকার কথা রয়েছে। বুধবারের ওই সভায় ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের থাকতে অনুরোধ জানান মোহাম্মদ নাসিম। তার এই প্রস্তাবের পরই শরিক দলের নেতারা জোট সম্প্রসারণের ব্যাপারে আপত্তি তোলেন।
শরিক দলের নেতারা জানান, তারা বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও ভোটকেন্দ্রিক জোটের পরিধি বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো মত জানাবেন না।
জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘জোট সম্প্রসারণের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে শরিক দলের অনেক নেতাই জোট সম্প্রসারণের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন কেন্দ্রিক বোঝাপড়া হলে সেখানে আপত্তি থাকবে না তাদের।’
তিনি আরো বলেন, ‘যাকে-তাকে দিয়ে পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে ১৪ দলীয় জোটের যে আদর্শিক স্পিরিট, আছে তা নষ্ট হবে।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শরিক দলের এমন এক নেতা বলেন, ‘‘বৈঠকে একাধিক নেতা কোটা আন্দোলন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাতীয় পার্টির (জেপির) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম কোটা নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করলে আনিসুর রহমান মল্লিক, জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়াসহ কয়েকজন কোটা আন্দোলনকে ‘বিরাট ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ইস্যুটি আমলাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে দ্রুত তা শেষ করতে হবে।
শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘কোটা আন্দোলনকে খোঁচা দিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু করতে দেওয়া ঠিক হবে না। এটিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মোকাবিলা করা উচিত। আমলাদের হাতে ঠিক করার দায়িত্ব থাকা ঠিক হবে না।’
আলোচনায় রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক অসিতবরণ রায় বলেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশনে খায়রুজ্জামান লিটন ও সিলেটে বদরুদ্দিন কামরান আমাদের প্রার্থী। এ দুটি সিটিতে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে বরিশালের মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে নানা কথা রয়েছে।’
তার এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানতে চান, ‘বরিশালের প্রার্থী নিয়ে কী সেই নানান কথা? যিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বজন হারিয়েছেন, স্বজনদের রক্তাক্ত ‘ডেড বডি’ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেছেন, তার তো পাগল হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা।’
এরপর জোট নেতারা দাবি করেন, সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে নেগেটিভ অর্থে বলেননি অসিতবরণ রায়।’
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন