কত কাজ করতে পারে এই রোবট!

আপডেট: 06:48:20 13/12/2017



img
img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তিন শিক্ষার্থী সাড়ে তিন মাসের প্রচেষ্টায় একটি রোবট তৈরি করেছেন। যার নাম রাখা হয়েছে ‘অটোমেটিক হাউস ক্লিনার অ্যান্ড লাইফ সেফটি রোবট’।
এই রোবট মানুষের পাশাপাশি বাসা-বাড়ি, হাসপাতাল ও কলকারখানাতে কাজ করতে সক্ষম বলে উদ্ভাবকদের দাবি।
রোবটটি তৈরি করেছেন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের তিন ছাত্র হৃদয় হোসেন, কাওছার আলী এবং সাব্বির হোসেন। কথা হয় রোবট নির্মাতা মো. হৃদয় হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, এই রোবটটি সৌরশক্তির দ্বারা চার্জ হয়। রোবটে ব্যবহৃত সৌর প্যানেল সূর্যের দিক অনুযায়ী ঘুরতে থাকে। এটি কথা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন কেউ ‘চল’ বললেই চলতে শুরু করবে। আবার স্টপ বা থাম বললেই সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়বে। আবার রোবটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘর পরিষ্কার করবে এবং ঘর পরিষ্কার শেষে নিজেই দাঁড়িয়ে পড়বে। বাড়িতে আগুন লাগলে বা কোনো গ্যাসের লাইন লিক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটা সিগন্যাল দেবে। শুধু তা-ই নয়, নিজেই পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে রাতে নিজেই বাড়ির বাতি জ্বালাবে।
তিনি জানান, এই রোবট বাড়িতে থাকলে মশা বা মাছি ঘরে ঢুকতে পারবে না। ঘরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে পাখা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালু বা বন্ধ করতে পারবে। এছাড়া রোবটটি অন্ধকারে চলার সময়, নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইট জ্বালিয়ে নেয়। এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো রিমোট বা অন্য কোনো ডিভাইস লাগবে না। এটি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
উদ্ভাবক কাওছার আলী জানান, রোবটটি বাসা-বাড়ি ছাড়া হাসপাতাল ও কলকারখানায় ব্যবহার করলে অর্থনেতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।
রোবটের আরেক উদ্ভাবক সাব্বির হোসেন জানান, রোবটটি স্কুল কম্পিটিশন ২০১৭-তে ঝিনাইদহের ৩১টি প্রকল্পের মধ্যে প্রথম হয়েছিল। আর চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট আয়োজিত কম্পিটিশনে অংশ নিয়ে পঞ্চম হয়েছে। ওই প্রতিযোগিতায় ১৩ পলিটেকনিকের ৩৯টি প্রকল্প অংশ নিয়েছিল।
ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে মানুষের পাশাপাশি কাজে লাগাতে হবে রোবট। কেননা রোবট মানুষের চেয়ে অনেক কম সময়ে, নির্ভুলভাবে বেশি কাজ করতে পারে। এই উদ্ভাবন সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে।’