হা-ডু-ডুতে এতো দর্শক!

আপডেট: 10:08:41 08/12/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : গ্রামবাংলার জনপ্রিয় খেলা হা-ডু-ডু। এই খেলা যেখানেই হয়, সেখানে জড়ো হন বহু দর্শক। তাই বলে একটি ম্যাচ দেখতে ২০-২৫ হাজার দর্শক! অবিশ্বাস্য হলেও আজ শুক্রবার তা-ই দেখা গেল।
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন সূর্যমুখী ক্লাব গত ২০ অক্টোবর শুরু করে ৩২ দলীয় হা-ডু-ডু টুর্নামেন্ট। আজ ছিল ওই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ। এই খেলা দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো ভেঙে পড়ে। খেলা দুপুরে শুরু হলেও মাঠ প্রাঙ্গণ ভরে যায় সকালেই। দলে দলে লোক বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলসহ স্থানীয় নানা যানবাহনে চেপে চলে আসেন খেলাস্থলে। টিকেট কেটে জায়গা দখল করে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন খেলা শুরুর।
জমজমাট এই ম্যাচ হাজারো দর্শককে বিমুখ করেনি। তারকা খেলোয়াড়রা উৎসাহ-আনন্দে মাতিয়ে দেন তাদের। পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি নিয়ে বাড়িতে ফেরেন তারা।
এ প্রতিযোগিতার ফাইনালে আবির ম্যানুফ্যাকচরিং দল ৩-০ সেটে পরাজিত করে তারকা খেলোয়াড় টাইগার কবিরের দোগাছিয়া দলকে।
যশোর ও আশপাশের জেলার ৩২টি দল এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা প্রতিযোগিতা শেষে আজ শুক্রবার আয়োজন করা হয় সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলা। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সেমিফাইনালে তারকা খেলোয়াড় টাইগার কবিরের দোগাছিয়া দল প্রতিপক্ষ তালবাড়িয়া দলকে ২-১ সেটে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে।
অপরদিকে আবির ম্যানুফ্যাকচরিং দল প্রতিপক্ষ কামারগন্না দলকে ৪-০ সেটে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে।
বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া ফাইনালে আবির ম্যানুফ্যাকচারিং দল টাইগার কবিরের দোগাছিয়া দলকে ৩-০ সেটে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলা উপভোগ করেন হাজার হাজার দর্শক।
আলমগীর হোসেন নামে এক দর্শক বলেন, ‘বহুদিন পর হাজার হাজার দর্শকের সাথে হা-ডু-ডু খেলা দেখলাম। নামকরা সব খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে পেরে ভালো লাগছে। সারাদিন না খেয়ে খেলা দেখলেও কোনো কষ্ট নেই। তৃপ্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’
শাজাহান নামে এক দর্শক বলেন, ‘বিখ্যাত টাইগার কবির, ইকবালের খেলা একবারে সামনের সারিতে বসে দেখবো বলে সকাল ৭টায় মাঠে ঢুকেছি। কিন্তু খেলা শুরু হয়েছে দুপুর ১২টার পরে। কিন্তু কোনো আক্ষেপ নেই। টাইগার কবিরের সাথে হাত মিলিয়ে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।’
খেলাপ্রেমী যশোর শহরের রফিকুল ইসলাম হীরক বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা হবে শুনে দেখতে এসেছি। অনেক জায়গায় খেলা দেখেছি। এতো দর্শক কথনো দেখিনি। ভালো খেলা হলে দর্শক গ্রহণ করে, এ মাঠ তার প্রমাণ। এ ধরনের খেলা প্রতিবছরই আয়োজন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।’
এদিকে, টাইগার কবিরের দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আবির ম্যানুফ্যাকচারিং দলের অধিনায়ক ইকবাল হোসেন ও স্বত্বাধিকারী কামরুল ইসলাম।
ইকবাল হোসেন বলেন, ‘টাইগার কবির হুংকার দিয়েছিলেন, পরাজিত হলে আর কখনো খেলবেন না। তবে তার এলাকার মাঠে তাকে পরাজিত করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
আর কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ দুই মাসের প্রতিযোগিতার এমন পরিসমাপ্তি আমাকে এবং এলাকার মানুষকে উল্লসিত করেছে। আমরা এ জয়কে সেলিব্রেট করবো।’
আয়োজক কাশিমপুর সূর্যমুখী ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী খেলাকে ধরে রাখতে ও মাদক এবং সন্ত্রাস থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। যা সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি।’
এ উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলকে ১০০ সিসি মোটরসাইকেল ও রানারআপ দলকে ৮০ সিসির একটি মোটরসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।
এছাড়া সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান আবির ম্যানুফ্যাকচারিং দলের অধিনায়ক ইকবাল হোসেন।
আর তৃতীয় স্থান অধিকারী তালবাড়িয়া দল একটি ফ্রিজ পুরস্কার পেয়েছে।

আরও পড়ুন