ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা

আপডেট: 01:39:41 16/10/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : সময় টিভির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক সেনা কর্মকর্তার করা জিডি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (দক্ষিণ) ইতিমধ্যে এর তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে উপাদান পাওয়া গেলে আদালতের অনুমোদনসাপেক্ষে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হবেন জাফরুল্লাহ।
এছাড়া আশুলিয়ায় জমি বিক্রিতে বাধ্য করার চেষ্টা এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে।
বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী নেতা হিসেবে পরিচিত জাফরুল্লাহ নির্বাচন সামনে রেখে ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। সরকারবিরোধী নতুন জোট গঠনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর রাতে সেনাপ্রধানকে নিয়ে মন্তব্যে ‘ভুল ছিল’ স্বীকার করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করলেও তার মূল বক্তব্য থেকে সরে আসেননি। 
ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন হাওলাদার জানান, সেনা সদরে দায়িত্বরত মেজর এম রকিবুল আলম গত শুক্রবার থানায় এসে ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন।
সেখানে বলা হয়, “২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের পূর্ব রাতে হঠাৎ করে অপ্রাসঙ্গিকভাবে সেনাপ্রধান সম্পর্কে প্রদত্ত বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপ্রসূত ও ষড়যন্ত্রমূলক; যা সেনাবাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি তথা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
“ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি কেন, কী উদ্দেশ্যে এবং কাদের প্ররোচনায় এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক, বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য টকশোতে বলেছেন, তা তদন্তের দাবি রাখে।”
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, “এই জিডিটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণের অনুমতি আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পেয়েছি। মামলা তদন্তের জন্য ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
৯ অক্টোবর রাতে সময় টিভির আলোচনা অনুষ্ঠান সম্পাদকীয়তে জাফরুল্লাহ চৌধুরী দাবি করেন, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ যখন ‘চট্টগ্রামের জিওসি’ ছিলেন, সেখান থেকে ‘সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরি’ যাওয়ার ঘটনায় তার ‘কোর্ট মার্শাল’ হয়েছিল।
এরপর বিষয়টি নিয়ে সেনা সদরের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। সময় টিভি নিজেদের বক্তব্যসহ সেটি প্রচার করে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকরি জীবনে কখনোই চট্টগ্রামের জিওসি বা কমান্ড্যান্ট ছিলেন না। ওই সময় চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে কোনো সমরাস্ত্র বা গোলাবারুদ চুরি বা হারানোর ঘটনা ঘটেনি। জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকরি জীবনে কখনো কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হননি।
জাফরুল্লাহর বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে বর্ণনা করে সেনাসদরের প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ওই বক্তব্য “সেনাবাহিনী প্রধানসহ সেনাবাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে জনসম্মুখে হেয় করার হীন অপচেষ্টা মর্মে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়।”
সেনাসদরের প্রতিবাদের পর গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, টেলিভিশনের আলোচনায় তার বক্তব্যে ভুল ছিল এবং সেজন্য তিনি দুঃখিত।

আশুলিয়ায় চাঁদাবাজির মামলা
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর চাঁদাবাজির অভিযোগেও মামলা হয়েছে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
ঢাকার আশুলিয়ার পাথালিয়ায় জমি বিক্রিতে বাধ্য করার চেষ্টা এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে সোমবার রাতে মামলাটি হয়।
মানিকগঞ্জের মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তির করা এই মামলায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাফরুল্লাহসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে আশুলিয়া থানার ওসি রিজাউল হক জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জাফরুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত গণবিশ্ববিদ্যালয় সাভারের আশুলিয়া থানা এলাকায় অবস্থিত।
মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী বলেন, পাথালিয়া মৌজার প্রায় চার একর ২৪ শতাংশ জমি তিনিসহ আরো দুজন ২০০৩ সালে কিনেছিলেন। ওই জমি নেওয়ার জন্য জাফরুল্লাহ ও তার লোকজন তাকে নানাভাবে ‘ভয়ভীতি’ দেখিয়ে আসছে।
“তারা নাম মাত্র মূল্যে বিক্রির জন্য আমাকে এবং আমার শরিকদের চাপ দেওয়ার পাশাপাশি জীবননাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।”
আলী বলেন, “তারা আমাদের জমি থেকে জোর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাটি কেটে নিয়ে গেছে। তাদের অত্যাচারে আমি এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এজন্য আমার বাইপাস সার্জারি করতে হয়েছে।”
এসব ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় আগে একাধিক জিডি করেন বলেও দাবি করেন আলী।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন