‘অপরিকল্পিত’ খননে ভৈরবে ভাঙন, ক্ষুব্ধ মানুষ

আপডেট: 02:11:57 19/02/2018



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : খননের প্রভাবে নওয়াপাড়া এলাকায় ভাঙছে ভৈরব নদ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নদপাড়ের মানুষ। ক্ষুব্ধ এসব মানুষের কথা, অপরিকল্পিত খনন ছাড়াও নদের ওপর সেতু নির্মাণ, দখলদারদের দৌরাত্ম্যের কারণে তারা দুর্দশায় পড়েছেন।
৭-৮ মাস ধরে চলছে ভৈরব খনন। প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করে ভৈরব নদের খুলনা থেকে যশোরের নওয়াপাড়ার চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত খনন করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য নদের নাব্য ও গতিপথ ঠিক রাখা। নাব্য থাকলে নওয়াপাড়া নৌবন্দর ব্যবহার করে বিপুল টাকার চলমান বাণিজ্য বজায় থাকে। এমনকি বাণিজ্য বাড়ার সুযোগও রয়েছে। নদের নওয়াপাড়া অংশের পশ্চিম পাশে ভৈরব নদের তীরজুড়ে রয়েছে নৌবন্দর ছাড়াও কয়েকশত বেসরকারি ঘাট। এই পাড়েই জেগে উঠছে চর। আর ভাঙছে পুব পাড়ের ফসলি জমি। নদের গতিপথ বদলের কারণেই এমনটি হচ্ছে।
বন্দর ব্যবহারকারী, ঘাট মালিক এবং কার্গো মালিকদের দাবি ছিল, নদের গোটাটাই ড্রেজার দিয়ে খনন করে বিভিন্ন বাঁক সোজা করার। কিন্তু গত দুই বছর ধরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ যে সেতুটি নির্মাণ করছে, তার কারণে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে নাব্য সংকট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে কয়েকজন ঘাট মালিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক মাটি ভরাট করে অবৈধভাবে নদের জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন পণ্যাগার। একদিকে অবৈধ দখলের কারণে দক্ষিণ পাশে চর জাগছে, অন্যদিকে সেতুর কারণে পানির স্রোত ধাক্কা খাচ্ছে পুব পাড়ে। অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রামের অসংখ্য মানুষের চাষাবাদের জমি এ কারণেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
সেতু এলাকার পুব পাড়ের মানুষের এই অপূরণীয় ক্ষতির ফলে তারা দাবি তোলেন নদীর জায়গাকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে নদীর বাঁক সোজা করে খননের। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের কথায় কান দেননি। তারা অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র নদী খনন করছেন।
নদ খননের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গ ড্রেজার’ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিআইডাব্লিউটিএ’র প্রকৌশল বিভাগ যেভাবে নকশা করে মাটি খননের আদেশ দেন তারা সেভাবেই কাজ করছেন। এখানে তাদের ইচ্ছামতো কোনো খনন কাজ করার সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলছেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিআইডাব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে নদী খননের কার্যক্রম চলে। বিআইডাব্লিউটিএ’র কনসাল্টিং ফার্ম ‘সিইজিআইএস’ নদ খননের নকশা অনুযায়ী সার্ভে করে দেওয়ার পরই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগ নদ খননের বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্তে কাজ চালাচ্ছে।
ফলে ঘাট মালিক ও ঘাট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে নওয়াপাড়া বন্দর এলাকা ড্রেজিং করার কারণে কিছু দিনের মধ্যেই খননের জায়গাগুলো আবার ভরাট হয়ে যায়। ফলে ঘাটে কার্গো ভিড়িয়ে মালামাল ওঠানামা করাতে বিঘœ ঘটছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এই বিষয়ে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রনজিৎকুমার রায় বলেন, ‘নদীর তীর ঘেঁষে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে চর কেটে নদীর নাব্য ও স্রোতধারা ঠিক রাখার জন্য আমি বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বরাবর একখানা পত্র দিয়েছি।’

আরও পড়ুন