৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না

আপডেট: 09:58:39 18/09/2018



img
img
img

খুলনা অফিস : গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, হাজার কোটি টাকা ব্যাংক লুটের কোনো তদন্ত করেনি সরকার। এ জন্য আপনারা আসামি হতে পারেন।
চার হাজার কোটি টাকাকে অর্থমন্ত্রী ‘সামান্য’ বলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই অর্থের মালিক আপনি নন, জনগণ। দেশের সকল স্তরে দুর্নীতি ও লুট হয়েছে। সরকারি দলের নেতারা এর সাথে জড়িত। তাদের বিচার হয়নি।’
সুশাসন প্রতিষ্ঠা, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে খুলনায় যুক্তফ্রন্টের প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 
মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় হাদিস পার্কে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল চারটায় জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এছাড়া মঞ্চে গণসংগীত পরিবেশন করা হয়। 
জনসভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সরকার জবাবদিহিতা করতে বাধ্য থাকবে। আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করুন।’
তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধানের পদত্যাগ, মন্ত্রিসভা বাতিল, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিন। নির্বাচনকালীন সরকারের কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না।’
ইভিএমকে তিনি জাদুর মেশিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বলেন, ইভিএম-এর চিন্তা বাতিল করতে হবে।
জনসভায় ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে কোনো মূল্যে সরকারের ভোট চুরি ঠেকাতে হবে। জনগণ এবার ভোট দিতে চায়। মানুষ তার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছে। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ রাজপথে নামবে।
ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ভোট কারচুপির একটি কৌশলমাত্র। প্রায় চার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না।
মান্না বলেন, কিশোরদের কোটা ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মতো ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। লাখো জনতার গণআন্দোলনের মধ্যে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে।
‘দেশের সবচেয়ে বড় সংকট চলছে। চারমাসের মধ্যে ভোট। এই ভোট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে মানুষের মনের মধ্যে প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, জুলুম বন্ধ করতে হবে। মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালাতে হবে।  নিজের ভোট নিজে দিতে হবে। গুনে গেথে হিসাব করে বুঝে নিতে হবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্যের মধ্য দিয়ে এই জুলুমবাজ, দখলদার, ভোট চুরি ঠেকাতে হবে। লড়াই করতে চাই, লড়াই করেই বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ও সূচনা বক্তৃতা করেন জেএসডির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী ও জেএসডির কেন্দ্রীয়  সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন।
অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আতাউর করিম ফারুক, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আব্দুর নূর, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির সহ-সভাপতি দবির উদ্দিন জোয়ার্দার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, মাগুরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল, জেএসডির সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক কাওসার আলী সানা, স্থানীয় জেএসডি নেতা আব্দুল লতিফ, জিল্লুর রহমান, সুশাংশু সরকার, অধ্যক্ষ শেখ আব্দুর খালেক প্রমুখ।

আরও পড়ুন