‘অবিবাহিত’ দাবি করে তরুণীর প্রতারণা!

আপডেট: 03:08:09 06/06/2017



img

খুলনা অফিস : খুলনায় ‘জাল জন্মসনদ’ ও ‘অবিবাহিত প্রত্যয়নপত্র’ দিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে সুবিধা গ্রহণ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে জান্নাতুন নাঈম (২১) নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। ভুয়া প্রত্যয়নপত্রে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে (প্রথম বর্ষ, এমবিবিএস) একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তিও হয়েছেন ওই তরুণী। ওই মেডিকেল কলেজে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই অবিবাহিত ও ২০.০৭.১৬ তারিখে বয়স ২০ বছর বা তার কম হওয়ার বিধান রয়েছে।
এ ঘটনায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪ এর ২১ (২) ধারায় জান্নাতুন নাঈম, তার বাবা এবিএম শের জামান ও মা হোসনে আরা জামানকে আসামি করে খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৪২, তারিখ ২২.০৫.২০১৭)। আসামিরা সবাই নগরীর খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা।
মামলার বাদী এসএম ইসলাম আলীর অভিযোগ, গত ২ ফেব্রুয়ারি অসৎ উদ্দেশে আসামিরা নগরীর দশ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস থেকে স্মারক নম্বর-বিস ২-১৭/৮৬৮ এ ‘জান্নাতুন নাঈম অবিবাহিত’ মর্মে প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহ করেন। এছাড়া বয়স গোপন করে জন্মতারিখ ১৯৯৮ সালের ১৭ মার্চ দেখিয়ে জাল সনদ তৈরি করা হয়। অথচ, ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনার তিতুমীর নৌঘাঁটি ফেয়ারওয়ে অডিটোরিয়ামে জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জান্নাতুল নাঈমের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস থেকে আগে সংগৃহিত জন্মসনদ ও বিয়ের কাবিননামায় তার জন্মতারিখ উল্লেখ করা ছিল ১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ।
বিষয়টি জানাজানি হলে দশ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হিল্টন খুলনা মহানগর হাকিমের আদালতে এফিডডেভিড করে ওই প্রত্যয়নপত্র ‘ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে সংগৃহিত হয়েছে’ বলে ঘোষণা দেন এবং থানায় জিডি করেন। সাধারণ ডায়েরি নম্বর ৪৬৪, তারিখ ২২.০২.১৭। পরে তার সুপারিশের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশকান্তি বালা ওই জন্মসনদটি বাতিল করেন।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমীর তৈমুর ইলী জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ দিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বেআইনি সযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন