কুষ্টিয়ায় বিয়ের দাবিতে সেই লিমার সাংবাদ সম্মেলন

আপডেট: 08:12:29 24/02/2018



img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : এবার বিয়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুষ্টিয়ার খোকসা যুবলীগের নেতার সাবেক স্ত্রী জুয়েনা হোসেন লিমা।
এর আগে বিয়ের দাবিতে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সায়েম হোসেন সুজনের বাড়ির সামনে দুইদিন অবস্থান করে আলোচনায় আসেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার একটি রেষ্টুরেন্টে নিজের পুত্র সন্তানকে সাথে নিয়ে সাংবাদ সম্মেলন আসেন লিমা। সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে লিমা জানান, তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের মেয়ে। ২০০৭ সালে তার বিয়ে হয় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু উবায়দা সাফির সাথে। ২০১৭ সালে একটি মামলায় সাফি জেলে গেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সায়েম হোসেন সুজন খোঁজখবর করতে তাদের বাড়ীতে যেতের। একদিন বাড়ীর লোকজনদের অনুপস্থিতিতে তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালায় এবং মোবাইল ফোনে তা ধারণ করে। পরবর্তিতে ভিডিও ছড়িয়ে দেবার হুমকি ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শারিরীক সম্পর্ক স্থায়ী করে। স্বামী জেল থেকে বের হয়ে এসে বিষয়টি টের পেয়ে তাকে তালাক দিলে লিমা ঢাকায় বাবার বাড়ীতে চলে আসে।
সম্প্রতি সুজন অন্যত্র বিয়ে করবে বলে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি বিভিন্ন মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়। এরপর বিয়ের দাবিতে তিনি গত ২ ফেব্রুয়ারি সুজনের বাড়ীতে চলে আসেন। সুজন বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে বাড়ী ছেড়ে চলে যায়। এরপর তালা ভেঙ্গে লিমা সুজনের বাড়ীর বারান্দায় অবস্থান করে। দু’দিনের মাথায় পুলিশ গভীর রাতে তাকে ওই বাড়ী থেকে থানায় নিয়ে যায়। এসময় লিমা মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা নেয়নি। পরদিন সকালে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
সুজনের লোকজনের হামলা ও গণধর্ষণের হুমকিতে লিমা আর ওই বাড়ীতে ফিরতে না পেরে খোকসায় এক বান্ধবীর বাড়ীতে আত্মগোপনে থাকে। এখন সম্মান ফিরে পেতে এবং সুজনের বিচার দাবিতে তিনি এ সাংবাদ সম্মেলন করছেন বলে দাবি করেন।
লিমা জানান, সুজন ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ায় পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো তাকে হুমকি ধামকি দিয়েছে।
খোকসা থানার ওসি নাজমুল হুদা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে লিমাকে সুজনের বাড়ী থেকে নিয়ে আসা হয়। আর লিমা কোন মামলা দেয়নি।

আরও পড়ুন