অদম্য নারী সাথি বিশ্বাস

আপডেট: 02:38:48 08/03/2018



img

সাগর জামান

এরই মধ্যে বিকেলের মিঠেল আলো বাড়ি ফিরে গেছে। গোধূলিও হারিয়ে গেছে। সন্ধ্যার আঁধার দিগ্বলয় বাড়িয়ে দিয়েছে। মিয়নো আলোয় চলছে এক অদম্য নারীর বেসাতি। স্বাবলম্ববী হওয়ার সংগ্রাম।মুখে তবু তার আলোকিত হাসি।
প্রতিদিন বিকেল হলেই সংসারের সব কাজ গুছিয়ে তিনি হাজির হন মাগুরা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন বেলতলা সড়কে। সড়কের পাশেই পসরা সাজিয়ে বসেন। রকমারি রান্নার সব উপকরণ নিয়ে তৈরি করতে থাকেন চপ, পুরি, পিঁয়াজু, সিঙাড়া, পাপর, ছোলা ইত্যাদি সব মজাদার খাবার। সিদ্ধ হস্তে খাবার তৈরির পাশাপাশি ক্রেতাদের মাঝে সযত্নে তা পরিবেশন করেন নিষ্ঠার সাথে, ক্লান্তিহীনভাবে প্রতিদিন।
গল্পটা মাগুরা শহরের বেলতলার বাসিন্দা সাথি বিশ্বাসের। তিনি এক উদ্যমী নারী। স্বামী স্বপন বিশ্বাস বিদ্যুৎমিস্ত্রি। স্বপনের একার রোজগারে বৃদ্ধা মা, প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পাঁচজনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন সাথি বিশ্বাস সংসারের কাজ সেরে এই ব্যবসার কাজে সময় দেন। এ পেশায় নিয়োজিত হওয়ার পর ঘুচে গেছে তার সংসারের আর্থিক টানাপড়েন। সাচ্ছন্দে চলছে সংসার। বৃদ্ধা শাশুড়ি আর প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা খরচও চালাতে পারছেন।
সাথি বিশ্বাসের দুটি ছেলে। বড় ছেলে অমৃত বিশ্বাস বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, ছোট ছেলে অরণ্য বিশ্বাস চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলেকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন- লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। তাইতো প্রণান্ত পরিশ্রম করছেন তিনি।
মাগুরায় এধরনের পেশাকে অনেকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু সাথি বিশ্বাস ছাড়া কোনো নারীকে টিকে থাকতে দেখা যায়নি। আপাত দৃষ্টিতে সাথি বিশ্বাসকে একজন সাধারণ খেটে খাওয়া নারীই মনে হতে পারে। কিন্তু তার স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এই পেশা নির্বাচনকে নিশ্চয় ব্যতিক্রম প্রয়াসই বলতে হবে। তিনি অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ না করে পেশাদার রাঁধুনি হয়ে নিজের ছোট ব্যবসায় রন্ধন প্রজ্ঞা কাজে লাগাচ্ছেন।
সাথি বিশ্বাস গৃহবধূ বলে কেবল সংসারের নিগড়ে বাঁধা থাকেননি। ঘোর অনটনের মধ্যেও তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং তিনি আত্মনির্ভর চেতনার প্রতিবোধন ঘটিয়েছেন। তিনি পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে সাফল্য এনেছেন, আত্মনির্ভরতা অর্জন করেছেন।