'ধর্ষক' ধর্মগুরুর পুরুষাঙ্গ কর্তন

আপডেট: 01:55:54 21/05/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ভারতের কেরালা রাজ্যের এক ছাত্রী শুক্রবার রাতে এক হিন্দু ধর্মগুরুর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন।
কথিত ওই ধর্মগুরু গত বছর ছয়েক ধরে নিয়মিত এই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন চালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
শুক্রবার রাতে ওই ব্যক্তি মেয়েটির বাড়িতে এসে তাকে আবার ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে তিনি একটি ছুরি দিয়ে গুরুর পুরুষাঙ্গ কেটে দেন।তারপর নিজেই পুলিশের কাছে ঘটনাটি জানান।
হাসপাতালের তরফে বলা হয়েছে ওই ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ প্রায় ৯০% কেটে গেছে, সেটা জোড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
কেরালার রাজধানী থিরুভনন্তপুরমের পুলিশ কমিশনার স্পর্জন কুমার জানিয়েছেন, "২৩ বছর বয়সী আইনের ছাত্রী ওই মেয়েটি এবং তার পরিবার কোল্লাম জেলার যে হিন্দু আশ্রমের ভক্ত ছিল, সেখানকারই ধর্মগুরু ছিলেন গঙ্গেশানন্দ তীর্থপদ ওরফে হরিস্বামী নামের ওই ব্যক্তি।''
''মেয়েটি আমাদের জানিয়েছে যে, তার যখন ১৭ বছর বয়স, তখনই হরিস্বামী তাকে প্রথম ধর্ষণ করে,'' বলেন স্পর্জন কুমার।
কিন্তু আশ্রমের স্বামীজিকেই বাবা-মা বেশি বিশ্বাস করবে এই ভয়ে মেয়েটি কিছু বলতে পারেনি বলে বলেন পুলিশ কমিশনার স্পর্জন কুমার।
''তারপর থেকে গত বছর ছয়েক ধরে সে নিয়মিতই যৌন নিপীড়ন চালাতো। শুক্রবার রাতে হরিস্বামী আবার মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে নিপীড়নের চেষ্টা করলে তখনই ছুরি দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেন ওই ছাত্রী।"
ওই ঘটনার পরে ছাত্রী নিজেই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে খবর দেন। মেয়েটির পরিবারই ওই ধর্ষককে থিরুভনন্তপুরমের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে বারোটার সময়।
চিকিৎসকরা বলছেন, "৫৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার পুরুষাঙ্গ শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও পুরুষাঙ্গ জোড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব।"
ওই ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে হরিস্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে।
একই সঙ্গে শিশুদের যৌন নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করার যে কঠোর আইন তৈরি হয়েছে, সেই 'পস্কো' আইনেও মামলা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ওই ছাত্রীর ওপরে যখন প্রথম যৌন নির্যাতন হয়, তখন যেহেতু সে নাবালিকা ছিল, তাই পস্কো আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
কেরালার সংবাদমাধ্যমগুলো কোল্লাম জেলার ওই আশ্রমটিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হরিস্বামী তাদের সঙ্গে গত ১৫ বছর ধরেই আর যুক্ত নেই।
খবরে বলা হয়, হরিস্বামী ওই ছাত্রীর বাড়িতে প্রায়ই আসতেন তার মাকে সাহায্য করার উছিলায়। মেয়েটির বাবা বছর কয়েক আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। হরিস্বামী এই ছাত্রীর মতো নিয়মিত তার মাকেও ধর্ষণ করতেন বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।
ওই ছাত্রীর মাকেও পুলিশ আটক করেছে। কারণ তারা মনে করছে, মেয়েকে যে ওই সাধু ধর্ষণ করেন, সেটা তিনি জেনেও চুপ করে ছিলেন। আইনের চোখে এটাও অপরাধ।
ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে এখনো মামলা করেনি পুলিশ।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ওই ছাত্রীর অসীম সাহসকে বাহবা দিয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন