'নিদ্রাদেবীর কোলে শিক্ষক'

আপডেট: 07:30:05 18/10/2016



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের ধলিগাতী হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন (৫০)। ক্লাসে গিয়ে ছাত্রদের না পড়িয়ে অফিসকক্ষে বসে ঘুমানো তার অভ্যাস। মানেন না স্কুলের কোনো নিয়ম-নীতি।
অভিযুক্ত শিক্ষক অবশ্য স্কুলচলাকালে ঘুমিয়ে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন না। তার এক সহকর্মীর মতে, 'বাড়িতে ঘুমানোর সময় পান না।' আর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ওই শিক্ষককে 'বেয়াদব' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ধলিগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন মোয়াজ্জেম হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন তিনি। তিনি স্কুলপ্রধানের নির্দেশনা থোড়াই কেয়ার করে চলেন নিজের মতো। মন চাইলে ক্লাসে যান, আর না হয় অফিসকক্ষে বসে ঘুমান। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তিনি নানা কৌশলে ম্যানেজিং কমিটিকে 'ম্যানেজ' করে ফেলেন।
মঙ্গলবারও তিনি ক্লাস না নিয়ে অফিসে ঘুমিয়ে ছিলেন; যে দৃশ্য স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লা মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন। তিনি ছবিটি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। লেখেন 'ধলিগাতী হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে নিদ্রাদেবীর কোলে আছেন, বাড়িতে সময় পান না।'
ঘুমকাতুরে এই শিক্ষকের কাণ্ড দেখে অনেকে ফেসবুকে নানা নেতিবাচক কমেন্ট করেন।অবশ্য অনেকে এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলেও মনে করেন। পরে অবশ্য শিক্ষক হাবিব পোস্টটি সরিয়ে নেন।
এই ব্যাপারে ফেসবুকে পোস্টদাতা শিক্ষকের ফোনে একাধিকবার রিং করা হয়। তবে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন স্কুল চলাকালে চেয়ারে ঘুমানোর কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট না করতে সুবর্ণভূমি প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীলিপকুমার পাল শিক্ষক মোয়াজ্জেমকে 'বেয়াদব' বলে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, 'মোয়াজ্জেম আমার বিরুদ্ধে বাইরে ষড়যন্ত্র করে।'
'আপনি স্কুলে থাকা অবস্থায় সহকারী শিক্ষক কীভাবে ঘুমিয়ে থাকেন'- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'স্কুলে ওই সময় মেহমান ছিলো।'
তবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ইউএনও কামরুল হাসান। তিনি বলেন, 'অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখব।'

আরও পড়ুন