অনুদানের টাকা হাতালেন ‘ভারতীয় নাগরিক’

আপডেট: 08:39:55 10/06/2018



img

অসীম মোদক, মহেশপুর (ঝিনাইদহ): আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ করা টাকার মধ্যে পাঁচ লাখ মেরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মঙ্গলচন্দ্র ওরফে মোংলা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে; যিনি ইতিমধ্যে ভারত চলে গেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আদিবাসীরা বিক্ষোভ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদিবাসীদের জন্য ১১ লাখ দশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য মহেশপুরে বাতিল হওয়া ‘আদিবাসী কল্যাণ বহুমুখি সমবায় সমিতি’র সভাপতি ভারত প্রবাসী মঙ্গলচন্দ্র ওরফে মোংলা (৪৮) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন।
ভারত প্রবাসী মঙ্গলচন্দ্র ওরফে মোংলার পাঁচ লাখ টাকা হাতানোর প্রতিবাদে আজ রোববার সকালে আদিবাসীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা।
মহেশপুর উপজেলার ১৮টি গ্রামের ৪০০ আদিবাসী পরিবারের জন্য বরাদ্দ ১১ লাখ দশ হাজার টাকা দিয়ে চারটি পাওয়ার ট্রিলার ক্রয়, ১০০ ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা বৃত্তিবাবদ ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদিবাসীদের অভিযোগ, ইতিপূর্বে প্রায় ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে বাতিল হওয়া আদিবাসী কল্যাণ বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি মোংলা সঠিকভাবে তা মধ্যে বিলিবণ্টন না করে ভারতে পাড়ি জমিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। আর সে কারণেই ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর আদিবাসী কল্যাণ বহুমুখি সমবায় সমিতির ৫৫৭ নন্বরের নিবন্ধনটি ১৮৬৪ নম্বর স্মারকে বাতিল করা হয়।
আদিবাসীদের জন্য ইউএনও অফিসে টাকা এসেছে বলে খবর পেয়ে মোংলা ভারত থেকে চলে আসেন। বাতিল হওয়া সমিতির নামে টাকা বরাদ্দ নিতে যাতে কোনো ঝামেলা না হয় সে জন্য বেশ কয়েকজন তদবিরকারী ঠিকও করেন।
এ ছাড়া ‘মহেশপুর আদিবাসী সমাজ কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি শ্রীখগেন্দ্রনাথ সর্দার নিজেদের মহেশপুর উপজেলার ‘একমাত্র বৈধ আদিবাসী সমিতি’ দাবি করে সরকারি বরাদ্দের টাকা তাদের মাধ্যমে দেওয়ার আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, আদিবাসী কল্যাণ বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি মোংলা টাকা তছরুপ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় আদিবাসীদের অভিযোগে উক্ত সমিতির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যায়।
গোয়ালহুদা গ্রামের আদিবাসী রেনুবালা জানান, ‘মঙ্গলচন্দ্র ওরফে মোংলা আমাদের এখানে থাকে না। সে বেশ কিছুদিন হলো ভারতে চলে গেছে।’
‘আদিবাসীদের জন্য টাকা এসেছে শুনে সে ভারত থেকে আবার চলে এসেছে তা হাতাতে। আমার নামে ১৯৯৯ সালে একটি জমি ডিসিআর দেওয়া হয়। কিন্তু মোংলা সেই জমি কী দিয়ে কী করে সামাদের কাছে বিক্রি করে টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।’
আদিবাসী বিশুু খাঁ জানান, মোংলা ভারতে থাকেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। তিনি বছরে একবার করে এদেশে আসেন।
বাতিল হওয়া সমিতির সভাপতি অভিযুক্ত ভারত প্রবাসী মোংলা বলেন, ‘আমার সমিতি বাতিল হয়ে গেছে। তারপরও আবেদন করেছি। নতুন করে আরেকটি সমিতি রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তান আমার বাবার ভিটায় ভারতের রনঘাটে বসবাস করে। আমি বছরে ৭-৮ মাস সেখানে থাকি।’
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, সভাপতি মঙ্গলচন্দ্র ওরফে মোংলা বিভিন্ন অনিয়ম করার কারণে ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর ১৮৬৪ স্মারকে আদিবাসী কল্যাণ বহুমুখি সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। তবে এখন তারা নতুন করে আবার সমিতির নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
একজন ভারতীয় নাগরিক কীভাবে আবেদন করতে পারেন- জানতে চাইলে সমবায় কর্মকর্তা ফরিদুল বলেন, মঙ্গলচন্দ্র ওরফে মোংলার বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র এখনো বাতিল হয়নি। সে কারণে তিনি আবেদন করতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, ভারতীয় ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক হলেও তিনি আবেদন করতে পারেন।

আরও পড়ুন