অন্ধের যষ্টি তিন বছরের শাহিদা

আপডেট: 05:15:37 30/05/2018



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : পড়তে বা লিখতে না পারলেও হাতে বই আর কলম, কাঁধে মায়ের ছড়ি- এভাবেই মাকে পথ দেখিয়ে দোকানে দোকানে নিয়ে যায় তিন বছরের শিশু শাহিদা। এই বয়সে মায়ের কোলে চড়ে বেড়ানো বা পাড়ার ছোট্ট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বাড়িতে বসে পুতুল খেলা করার কথা ছিল তার। কিন্তু বিধি বাম। মায়ের সঙ্গে কার্যত ভিক্ষেয় নামতে বাধ্য হয়েছে এই দুধের শিশুটি।
মহেশপুর শহরের বাসিন্দারা এই দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত। আগুয়ান ছোট্ট শিশুটিকে অনুসরণ করে পিছু পিছু হাঁটছেন অন্ধ মা কাজল বেগম।
মহেশপুর হাইস্কুল মার্কেটের নিউ মেডিসিন কর্নারের মালিক মিঠু বলেন, প্রতি সপ্তাহে এভাবে ছোট্ট মেয়েটি লাঠি ধরে তার অন্ধ মাকে দোকানের সামনে নিয়ে আসে। যে যা দেয় তাতেই খুশি তারা।
তিনি আরো বলেন, ‘এত ছোট বাচ্চা কীভাবে বুদ্ধি করে মায়ের লাঠি কাঁধে নিয়ে আগে আগে হেঁটে বিভিন্ন দোকানের সামনে যায়, আর মা তার পিছু পিছু হেঁটে যায় সে দোকানে! এই টুকু বাচ্চাটার বুদ্ধি দেখে অবাক হই আমরা সবাই।’
শিশুটির মা কাজল বেগম জানান, তার বাড়ি মহেশপুর উপজেলার এস বি কে ইউনিয়নের খালিশপুর হাইস্কুলপাড়ায়। স্বামী আব্দুর রাজ্জাক দ্বিতীয় বিয়ে করে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। সেই থেকে ভিক্ষে করে মা-মেয়ের দিন চলে।
‘শাহিদা যখন হাঁটতে পারতো না, তখন ওকে কোলে করে লাঠির সাহায্যে দোকান চিনে ভিক্ষা করতাম। এখন ও হাঁটতে শিখেছে। ওর সাহায্যে দোকানে দোকানে গিয়ে ভিক্ষে চাই।’
ভাতা কার্ড পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে কাজল বলেন, ‘বেশ কয়েক বার মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে গিইলাম। কোনো লাভ হয়নি। পরে আর রাগ করে যাইনি।’
অন্ধ কাজল বেগমের ইচ্ছে- ‘শাহিদাকে আমি মাদরাসায় পড়িয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। সবে ওর বয়স তিন। আর দুই বছর পর মাদরাসায় ভর্তি করে দেবো।’
কার্ড  পেলে মেয়ের লেখাপড়া করাতে সুবিধা হবে জানিয়ে কাজল বলেন, ‘না হলে ভিক্ষে করেই মেয়েকে মাদরাসায় লেখাপড়া করাবো।’
এস বি কে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফান হাসান চৌধরী নুথান বলেন, ‘কাজল বেগম নামের এক অন্ধ মহিলা আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু তার জন্ম নিবন্ধন কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় আমরা তাকে কোনো কিছুই নিতে পারিনি। জন্ম নিবন্ধন কার্ডটি আনতে পারলে আমরা তাকে সহযোগিতা করতে পারবো।’
মহেশপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জুলফিকার আলী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো মহিলা আমার কাছে আসেনি। এলে তার জন্য একটা ব্যবস্থা করে দেবো।’