অন্যায়ের সঙ্গে কোনও আপস নয় : যবিপ্রবি ভিসি

আপডেট: 09:44:14 19/05/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাধা যত বড়ই হোক, আমি তা অতিক্রম করবো।  বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লড়াইয়ে আমি অন্যায়ের সঙ্গে কোনও আপস করবো না।
আজ রবিবার দুপুরে যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে।  একটি নিয়োগের বিষয়ে দুর্নীতির কথা উঠেছিল, স্বচ্ছতার জন্য সেই প্রার্থীর নিয়োগও বাতিল করা হয়।  দুর্নীতি যে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা যায় না, এটা আপনারা জানেন। তবে আমার দৃষ্টিতে দুর্নীতি ধরা পড়লে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবগত আছেন। তারা সবাই আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে আমি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাব।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমি শিক্ষক হিসেবে থাকতে চাই। শিক্ষকের বাইরে যেন আমাকে না নেওয়া হয়। এটা যদি ওনারা বোঝেন, তাহলে খুব ভালো হবে। আর যদি শিক্ষকের বাইরে গিয়ে আমার শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হয়, তাহলে খুব বেশি ভালো হবে বলে আমি মনে করি না।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও  সকলের নিরলস প্রচেষ্টায় আমরা অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমিক ভবনে ১৫০০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা-সম্পন্ন কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হলে আজকে সকল বিভাগের স্নাতক শ্রেণির সকল বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা একযোগে হচ্ছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বিরল অর্জন।
অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, যশোরের শহরভিত্তিক রাজনীতি আমার আগমনকে স্বাগত জানাইনি। এমনকী তাদের অধিকাংশেরই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের যোগ্যতা নেই। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। শিক্ষার্থী ভর্তি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যন্ত- প্রতিটি পদক্ষেপে তারা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় তারা আমার অফিসে হামলা করে। এমনকী, আমার পিএস এবং একজন কর্মচারীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, যবিপ্রবি পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সুধী সমাজ, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, দু-একজন ব্যতিত যবিপ্রবি ছাত্রলীগের মূলধারার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় আমি সেই সকল বাধা অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হতে সক্ষম হয়েছি।
যবিপ্রবির সম্মানজনক র্যাং কিং-এ উত্তরণ ঘটাতে ভিশন ও মিশন নির্ধারণ, তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট, শেখ হাসিনা সফট্ওয়্যার টেকনোলজি পার্কে স্টার্ট-আপ কোম্পানি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য জায়গা বরাদ্দ, শিক্ষকদের গবেষণা ও পিএইচডি গবেষকদের জন্য আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন।
তিনি  বলেন, গবেষণা কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার জন্য গত এক বছরে বিশ্বমানের একটি জিনোম সেন্টার, এ অঞ্চলের মৎস্য খাতের বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে ‘হ্যাচারি অ্যান্ড ওয়েট ল্যাব’ স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী সামনে রেখে, আগামী ১০ বছরের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।  আগামী বছর থেকেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তিসহ এ সংক্রান্ত সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস সার্ভিস সেন্টার’ চালু করতে যাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: আব্দুল মজিদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ নাজমুল হাসান, যবিপ্রবির ডিন অধ্যাপক ড. মো: আনিছুর রহমান, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো: জিয়াউল আমিন, অধ্যাপক ড. মৃত্যঞ্জয় বিশ্বাস, ড. মো: ওমর ফারুক, ড. মো: জাফিরুল ইসলাম, ড. কিশোর মজুমদার, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব, প্রধান প্রকৌশলী মো: হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারি, সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো: হায়াতুজ্জামান প্রমুখ।

আরও পড়ুন