অফিসে আসেন না যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রপ্রধান

আপডেট: 08:15:11 02/08/2018



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কৃষিবিদ এম এ খালিদ দেড় বছরের বেশি সময় কর্মস্থলে আসেন না। অফিসপ্রধান কর্মস্থলে না আসায় ওই অফিসের ২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীও অফিসে অনিয়মিত।
বৃহস্পতিবার অফিসটিতে মাত্র সাতজন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। এমন চিত্র শুধু একদিনের নয়, প্রতিদিনের।
যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ক্যাশিয়ার আমজাদ হোসেন অফিসের এই বেহাল দশা সম্পর্কে বলেন, ‘কর্মকর্তা না থাকলে কি কর্মচারীরা থাকেন?’
তিনি স্বীকার করেন, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর অফিসে আসেন না। চুয়াডাঙ্গা বা ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় এসে ফোন দিলে তিনি হাজিরা খাতা নিয়ে যান। তারপর একবারে সাক্ষর করেন অফিসার।
অফিস সূত্র জানায়, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কৃষিবিদ এম এ খালিদ ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রয়ারি ঝিনাইদহে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অফিস করেন না। কেন্দ্রের এক নারী প্রশিক্ষকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর এম এ খালিদ অফিসে আসা বন্ধ করে দেন। গত বছর ছুটি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঝিনাইদহ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওই নারী প্রশিক্ষককে তিনি নিয়ে যান ঈশ্বরদীর নিজ বাড়িতে। সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই নারী গর্ভবতীও হয়ে পড়েন। এই তথ্য গোপন থাকেনি। ফলে শুরু হয় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ। এই খবর অফিসে হই চই ফেলে দেয়।
সূত্র জানায়, গাইবান্ধা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আরেক ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাকাত আলী এক লিখিত পত্রে ঝিনাইদহ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর খালিদের নারী কেলেংকারি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচলককে দেন। ওই সময় ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর এম এ খালিদ ঝিনাইদহে বদলি হলেও থাকতেন গাইবান্ধার ডরমেটরি ভবনে। ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল ৩৪.০১.৩২০০.০০০.১৮.৪২.২০০৫ নম্বর স্মারকে দেওয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাইবান্ধায় একটানা ১২ বছর থাকার সুবাদে এক ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর এম এ খালিদ। তাছাড়া ঝিনাইদহের ওই নারী প্রশিক্ষকের সঙ্গেও তিনি মোবাইলে অশ্লীল আলাপচারিতা চালিয়ে যান; পরে যা খালিদের স্ত্রী জানতে পারেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহে জর্জরিত খালিদ।
এদিকে, ঝিনাইদহ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী মহাপরিচালক বরাবর ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর ২০৩ নম্বর স্মারকে ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর খালিদের অফিসে না আসার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, অফিসপ্রধানের অনুপস্থিতির সুযোগে অফিসের শেডগুলোতে মুরগি পালন করছেন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও কর্মচারী জসিম উদ্দীন। মুরগি পালনের খরচ অফিস থেকেই বহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ক্যাশিয়ার আমজাদ হোসেন স্বীকার করেন, ওই শেডের বিদ্যুৎ বিল অফিস থেকেই বহন করা হচ্ছে।
একটানা অফিসে অনুপস্থিতির কারণ জানতে ঝিনাইদহ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কৃষিবিদ এম এ খালিদকে ফোন করা হলে তিনি পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহিদুল ইসলাম স্বীকার করেন, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কৃষিবিদ এম এ খালিদ দীর্ঘদিন ধরেই অফিসে আসেন না। এই কারণে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বুধবার থেকে ট্রেনিং শুরুর কথা থাকলেও তা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকমতো অফিস করেন না। বিষয়টি মহাপরিচালকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।’